মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার জেলা কমিউনিস্ট পার্টির দ্বাদশ সম্মেলন পরবর্তী কাউন্সিলে খন্দকার লুৎফুর রহমানকে সভাপতি পূর্ণ নির্বাচিত ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাসুক মিয়া এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক রমাপদ ভট্টাচার্য যাদু নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে রবিবার ৩১ আগস্ট মৌলভীবাজারের সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মৌলভীবাজার জেলা কমিটির দ্বাদশ জেলা সম্মেলন এবং সোমবার ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় শুরু হয় কাউন্সিল অধিবেশনের কার্যক্রম হয়।
এই সম্মেলনকে ঘিরে সকাল থেকে পুরো শহরে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে পতাকা ফেস্টুন ব্যানারে বিভিন্ন শ্লোগানসমৃদ্ধ ব্যানার পোস্টার সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন। উদ্বোধনের পর লাল পতাকাসজ্জিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি চৌমুনা পয়েন্ট সিকান্দার আলী রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাসুক মিয়া উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাসান তারিক চৌধুরী জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এডভোকেট মকবুল হোসেন জেলা উদীচীর সভাপতি জহর লাল দত্ত চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ কমলগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক সাইফুর রহমান শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি জলি পাল, রাজনগর উপজেলা সম্পাদক সুরুক আহমেদ চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিক কুলাউড়া উপজেলার আব্দুল বাছিত শাহীন জেলা কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত দেবনাথ জেলা বাসদের সদস্য বিশ্বজিৎ নন্দী যুব ইউনিয়নের সভাপতি আবু রেজা সিদ্দিকী ইমন এবং জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জ্যোতিষ মোহন্ত এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান রমাপদ ভট্টাচার্য যাদু।
সম্মেলনে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক দুর্নীতি লুটপাট সন্ত্রাস দখলদারিত্ব গুম খুন ক্রসফায়ার টাকা পাচার বিনা ভোটের নির্বাচন আগের রাতের নির্বাচন এবং আমি আর ডামির নির্বাচনের মতো প্রহসনের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছিল এরই পরিণতিতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় তারা অভিযোগ করেন অন্তবর্তীকালীন সরকারও গত এক বছরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বক্তারা প্রশ্ন রাখেন দেশের শিক্ষা ব্যয় ও চিকিৎসা ব্যয় কি কমেছে নারী নির্যাতন মব সন্ত্রাস ও মাজার ভাঙার মতো ঘটনা কি বন্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা কি থেমে গেছে তাদের মতে দেশের সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দেশের বন্দর করিডর ও সম্পদ বিক্রির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা এখন সময়ের দাবি বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা চলতে পারে না জনগণের ভোটাধিকারকে উপেক্ষা করে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন জনগণ কখনো মেনে নেবে না নেতারা জোর দিয়ে বলেন দেশের বর্তমান শোষণমূলক ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তন করে মেহনতী মানুষের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য বাম গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই তারা বলেন এ দেশের শ্রমিক কৃষক ও সাধারণ জনগণই প্রকৃত শক্তি আর তাদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমেই একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সূচনা করা সম্ভব বক্তারা বলেন দুনিয়ার মজদুর এক হও স্লোগান আজও প্রাসঙ্গিক কারণ আন্তর্জাতিকভাবে শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের শোষণ অব্যাহত রয়েছে এবং সেই শোষণ থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বস্তরের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন সম্মেলন প্রাঙ্গণ জুড়ে ছিল উত্তেজনা উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা হাতে লাল পতাকা ব্যানার ও শ্লোগান নিয়ে অডিটোরিয়ামে সমবেত হন সার্বিকভাবে পুরো সম্মেলন এলাকা এক ধরনের জনসমুদ্রের রূপ নেয় উপস্থিত নেতারা শ্রমিক কৃষক ছাত্র যুব নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং বলেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে বাম শক্তিকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।