স্টাফ রিপোর্টার
ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ প্রতিষ্ঠিত ইস্কন (ISKCON) আয়োজিত জগন্নাথ রথযাত্রা উৎসব শনিবার ইস্ট লন্ডনের ইলফোর্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রথযাত্রার শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়, যা দিনভর নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রাচীন ভারতের উৎসব আধুনিক নগরীতে-
হাজার হাজার বছর আগে ভারতের পুরী শহরে শুরু হওয়া রথযাত্রা উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার দেবমূর্তি সুসজ্জিত রথে টেনে নেওয়া।
বিশ্বজুড়ে এই উৎসবকে ছড়িয়ে দেন হিস ডিভাইন গ্রেস এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, ইস্কনের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য। বর্তমানে রথযাত্রা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের প্রধান প্রধান নগরীগুলোতেও পালিত হয়। যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর প্রায় ৩০টি স্থানে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
ইলফোর্ডের শোভাযাত্রা-
শনিবার দুপুরে শোভাযাত্রাটি শুরু হয় রেডব্রিজ/ইলফোর্ড টাউন হল থেকে। ভক্তরা দেবতার রশি টেনে রথ টেনে নিয়ে যান ইলফোর্ড হাই স্ট্রিট জুড়ে। শোভাযাত্রার সময় ভক্তদের কীর্তন, ভজন এবং নৃত্যে ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ।
শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ নয়, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষও এ শোভাযাত্রায় যোগ দেন। পথচারীদের অনেকে শোভাযাত্রা দেখে মুগ্ধ হয়ে ভক্তদের সঙ্গে রথ টানায় অংশ নেন। পরে শোভাযাত্রা আবার টাউন হলে ফিরে আসে।
টাউন হলে সাংস্কৃতিক উৎসব-
শোভাযাত্রার পর বিকেল ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা পর্যন্ত ইলফোর্ড টাউন হলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় নৃত্য, নাটক ও জাদু প্রদর্শনী, যা উপস্থিত দর্শকদের আনন্দ দেয়।
এ ছাড়া ভক্তিমূলক সংগীত ও শিশু-কিশোরদের জন্য নানা বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল। উৎসব শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল প্রীতিভোজ, যা মিলন ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে।
ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক-
রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি ঐক্য ও মানবতার উৎসব হিসেবেও পরিচিত। সকল ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষকে এতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, যা জগন্নাথের সার্বজনীন বার্তাকেই প্রতিফলিত করে।
পুষ্পিতা গুপ্ত বলেন, “জগন্নাথ শব্দের অর্থ হলো ‘বিশ্বজগতের অধিপতি’। এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আধ্যাত্মিকতা কখনো জাতি, ধর্ম বা সংস্কৃতির সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি সকলের মিলনের দিন।”
ইস্ট লন্ডনের এই আয়োজন যুক্তরাজ্যে রথযাত্রার ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং উৎসবটিকে বিশ্বব্যাপী একতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।