

আমেরিকা অফিস: ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনেক দিন ধরে বলে আসছেন যে, ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায় না শুল্ক। গরুর মাংস, কলা, টমেটো, কফিসহ বেশ কিছু পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারে শুক্রবার নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। দ্রব্যমূল্য অসহনীয় হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা ভোক্তাদের চাপের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিলেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নতুন এ শুল্কছাড় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর ভোটে অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এ ভোটে নিউ ইয়র্ক সিটিতে মেয়র পদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সির গভর্নর পদে জয়ী হন ডেমোক্র্যাটরা। এমন বাস্তবতায় অর্থনীতিতে নিয়ে শঙ্কায় থাকা নাগরিকদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এলো ট্রাম্পের আদেশটি।
কাঠামোগত চুক্তি
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন বৃহস্পতিবার কাঠামোগত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেয়, যেটি চূড়ান্ত হওয়ার পর আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা ও এল স্যালভাদর থেকে আমদানীকৃত কিছু খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক উঠে যায়। চলতি বছরের মধ্যে এ ধরনের আরও চুক্তির পরিকল্পনা আছে অ্যামেরিকান কর্মকর্তাদের। ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনেক দিন ধরে বলে আসছেন যে, ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায় না শুল্ক, কিন্তু বাস্তবে পণ্যমূল্যের প্রভাব দেখা দেয় ভোক্তাদের জীবনে।দেশের ভোক্তাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় গরুর মাংসের দামের রেকর্ড বৃদ্ধি। এমন বাস্তবতায় ট্রাম্প জানান, পণ্যটির দাম কমাতে ব্যবস্থা নিতে চান তিনি।
গরুর মাংসের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিলের ওপর ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক অ্যামেরিকার বাজারে পণ্যটির দামে প্রভাব ফেলেছে। নির্বাহী আদেশের ফলে শুক্রবার যেসব পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক উঠে গেছে, সেগুলোর কয়েকটি নিয়মিত পরিবারের জন্য কেনেন নাগরিকরা। এসব পণ্যের অনেকগুলোর দামের বৃদ্ধি বছরের ব্যবধানে দুই অঙ্কের ঘরে গেছে। সেপ্টেম্বরে মাসের ডেটা অনুযায়ী, কিমা করা মাংসের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে মাংসের ফালি বা স্টেকের দাম আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
দুই ধরনের মাংসের দামের এ বৃদ্ধি তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর বাইরে কলার দাম প্রায় সাত শতাংশ এবং টমেটোর দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে যায়। সার্বিকভাবে সেপ্টেম্বরে বাসাবাড়িতে নিয়মিত খাওয়া হয়, এমন পণ্যের দাম দুই দশমিক সাত শতাংশ বেড়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কথা বলে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। মৌল এ হারের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন তিনি। এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় অসন্তোষ দেখা দেয় ভোক্তাদের মধ্যে। এমন বাস্তবতায় ট্রাম্প বলেন, যেকোনো ধরনের উচ্চ মূ্ল্যের জন্য দায়ী জো বাইডেনের সময়কার নীতি।