৭ নভেম্বর: বাংলাদেশের নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার দিন

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: নতুন এক দেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই এই নবীন দেশে চেপে বসে একদলীয় বাকশালি শাসনের অভিশাপ। দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে মৃত্যুর মুখে পতিত হয় হাজারো মানুষ। সঙ্গে ছিল রক্ষীবাহিনীর সন্ত্রাস ও নির্মম নির্যাতন। সদ্য স্বাধীন দেশে মানুষ দুঃশাসন ও দুর্ভিক্ষে দিশেহারা। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জাসদের সহিংস রাজনীতি। রাজনীতির এই ক্রান্তিকালে দেশের অস্তিত্ব পড়ে হুমকির মুখে। চারদিকে হতাশা, ভয়, আতংক; তখনই ১৯৭৫ সালের নানা ঘটনার পরিক্রমায় সামনে চলে আসে ৭ নভেম্বর। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব বিশাল। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের মাপকাঠিতে ৭ নভেম্বরকে বিবেচনা করা যাবে না। দেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশ আজকে যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তা ৭ নভেম্বর সংঘটিত হয়েছিল বলেই সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ওই দিনই বাংলাদেশ তার নিজের চলার পথ খোঁজে নেয়। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যা শুরু হয়েছিল তার পরিসমাপ্তি ঘটে ৭ নভেম্বর।

Manual3 Ad Code

৩ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ঘটনা প্রবাহের মূল চরিত্র তিনজন। সামরিক কর্মকর্তা ক্ষণস্থায়ী সেনা প্রধান খালেদ মোশাররফ, জাসদ নেতা কর্নেল আবু তাহের ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। কিন্তু ৭ নভেম্বর এসে সিপাহী ও জনতার সমর্থনে জিয়াউর রহমানই মূল নায়ক। ষড়যন্ত্রের দায় নিয়ে ছিটকে গেলেন খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহের। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে জাতি যখন নানা ধারার বিভাজিত তখনই জাতি গঠনে ঐক্যের ডাক নিয়ে রাজনীতির মঞ্চে হাজির হন জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান আগে থেকে প্রবলভাবে জনপ্রিয় ছিলেন জনসাধারণের মাঝে। খালেদ মোশাররফ ও আবু তাহের টিকতে পারেননি রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবে। ওই সময় দেশের মানুষের চাহিদার সঙ্গে তারা তাল মিলাতে পারেননি।

Manual5 Ad Code

স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে জিয়াউর রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল। বিপরীতে মানুষ দেখেছে আওয়ামী লীগ ও জাসদের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি। একদিকে আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করেছিল। আর বিপরীতে জাসদ জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি শুরু করেছিল। ওই সময়ের ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, জাসদের এককভাবে অভ্যুত্থান সংগঠিত করার ক্ষমতা ছিল না। ফলে জাসদ বা কর্নেল তাহের জিয়াউর রহমানের ওপর ভর করে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনা প্রবাহের শেষ অঙ্কে জিয়াউর রহমানকে সামনে নিয়ে আসে সিপাহী জনতা। এক পর্যায়ে সব কিছুই জিয়াউর রহমানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। জিয়াউর রহমানের গ্রহণযোগ্যতার কাছে কর্নেল তাহের আর টিকতে পারেননি। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে জাসদের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।

এরপরই জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করনে। প্রথমেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দেন। বাকশালের কেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত উদার বাজার ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যান। অর্থনীতির দুয়ার তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ করে দেন। কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নজরদারিও বজায় রইল। জিয়াউর রহমানের আমলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো নতুনভাবে কাজ শুরু করার সুযোগ পায়। এই সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমানে উন্নয়ন সহযোগিতার অর্থ প্রবেশ করে। এই অর্থ দেশে বিনিয়োগের ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে থাকে এনজিওগুলোতে। ক্ষুদ্র ঋণের বিকাশ জিয়াউর রহমানের আমলেই ঘটেছিল। এসব নানা ধরনের কর্মসূচির পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জিয়াউর রহমান বিদেশি বিনিয়োগ বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

Manual7 Ad Code

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জিয়াউর রহমান রাজনীতিকেও সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। জিয়াউর রহমানের আমলেই বাকশালে বিলুপ্ত হওয়া আওয়ামী লীগ নিজ নামে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে অন্যান্য দলের সঙ্গে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীও রাজনীতি ফেরা শুরু করে। জিয়াউর রহমান যুদ্ধত্তোরকালে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই জাতি গঠন করতে চেয়েছিলেন। তিনি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশের কল্যাণে সবাইকে নিয়োজিত করতে চেয়েছিলেন। দেশের রাজনীতির ইতিহাসে ৭ নভেম্বর তাই এক ঐক্যের প্রতীক। আর সেই ঐক্যের মহানায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান যখন রাজনীতির মঞ্চে আসেন তখন সারাবিশ্বেই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। দেশে-দেশে সামরিক অভ্যুত্থান হচ্ছে। সামারিক শাসকরা দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ক্ষমতা দখল করছেন।

ব্রাজিলে এক দশকের সামরিক শাসন চলছে। চিলিতে সালভাদর আয়েন্দেকে হটিয়ে পিনোশে ক্ষমতা দখল করেছেন। আর্জেন্টিাতেও হোর্হে ভিদালের সামরিক শাসন শুরু হয়েছে। ওদিকে আফ্রিকায় লিবিয়া, মিসর কঠোর সামরিক শাসকদের হাতে পরিচালিত হচ্ছে। আরবেও সামরিক শাসনের ঘনঘটা। সিরিয়া ও ইরাকে লৌহমানবরা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমন এক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী থেকে শাসন ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান নিজেকে আলাদা করে নিলেন। অস্থিরতা দমন করে, পরিস্থিতি সামলে নিয়ে দ্রুতই দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে গেলেন। স্বাধীনতার পর প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। জিয়াউর রহমান একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমনের মুখে হতবিহ্বল জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছেন। সেই সাহসের ওপর ভর করেই জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর দেশের নেতৃত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ফলে দেখাই যাচ্ছে, স্বাধীন ও স্বনির্ভর দেশ গঠনের প্রকৃত সূচনা হয়েছিল ৭ নভেম্বর বিপ্লবের হাত ধরে। ১৯৭১ সালের পর সারা দেশের মানুষ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ৭ নভেম্বর।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code