

স্টাফ রিপোটার :: ভেনেজুয়েলায় নতুন করে সুষ্ঠু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেয়া এবং দেশটিতে অবাধে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘে আনা মার্কিন প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া এবং চীন।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেনেজুয়েলার ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করে। মার্কিন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে নয়টি। অপরদিকে চীন এবং রাশিয়া এই প্রস্তাবের বিপক্ষে নিজেদের ভেটো দেয়ার ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকাও মার্কিন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। অপরদিকে ইন্দোনেশিয়া, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি এবং আইভরি কোস্ট ভোট দানে বিরত ছিল।
এদিকে ভেনেজুয়েলার চলমান সংকট নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনা রাশিয়ার একটি প্রস্তাবও পাশ হতে ব্যর্থ হয়। এই প্রস্তাবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এটি মাত্র চার ভোট পায়।
নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির আগে ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানায়। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফ্রান্সের দূত ফ্রানকোয়িস দেলাত্রে জানান, এই প্রস্তাবে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রতি কোন আঘাত করা হয়নি। এছাড়া এটি সেনা ব্যবহারের আইনি কোন ভিত্তিও দেয়নি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা দূত উ হাইতাও বলেন, ভেনেজুয়েলার ব্যাপয়ারে দেশটির জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া উচিত।
এদিকে ভেনেজুয়েলাবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এলিয়ট আব্রামস জাতিসংঘের রুশ রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রসঙ্গত, নেবেনজিয়া ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরো পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক সংকটে পড়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। কারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেছে দেশটির বিরোধী দলের রাজনীতিকরা। এরপর চলতি বছর মাদুরো প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর এই সংকট আরো মারাত্মক রূপ নেয়। এধরনের পরিস্থিতিতে দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা গুয়াইদো নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ৫০টির মত দেশ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়।