

ডেস্ক রিপোর্ট :: রাতের শেষ প্রহরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শহরে বেরিয়ে পড়েন অসংখ্য লোক। তাদের হাতে থাকে কোদাল, ঝুড়ি, ঝাড়ুসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। সূর্য উদয়ের আগে শহরের বাসা-বাড়ি ও সড়কের সব আবর্জনা পরিষ্কার করেন তারা।
শুধু শহরেই নয়, গ্রামগঞ্জে মলমূত্র নিষ্কাশন, ড্রেনেজ পরিষ্কার করেন হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা। তবে বাসস্থান, শিক্ষা, ভাতা বঞ্চনায় রয়েছে তারা।
কালীগঞ্জ হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য সুজল দাস বলেন, পৌরসভার ফয়লা, রেলস্টেশন পাড়া, নদীপাড়া, বেজপাড়া, চিনিকল এলাকাসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে বসবাস করি আমরা। দরিদ্রতা, আবাসস্থলসহ নানা দুঃখ-কষ্ট ভরা জীবন। প্রতিদিন মানুষের ঘুম ভাঙার আগেই শহরটি চলাচলের উপযোগী করি।
হরিজন প্রশান্ত দাস বলেন, সমাজে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলেও ভাতা পরিমাণ কম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় অর্ধাহারে ও অনাহারে দিন কাটাতে হয়। এছাড়া ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে না পারায় বড়দের সঙ্গে কাজে লেগে যায়। ফলে শিশুরা সুবিধা-বঞ্চিতভাবে বেড়ে ওঠে।
কালীগঞ্জ পৌর বাসিন্দা হরিজন আনন্দ বিশ্বাস, উজ্জ্বল দাস, হাজু দাস, রেনুকা দাস, মেনুকা দাস বলেন, অভাব অনটনের কারণেই সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারি না। সন্তানদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে রাখতে খুবই কষ্ট হয়।
পৌরসভার হরিজন সম্প্রদায়ের জমাদ্দার শচীন্দ্রনাথ দাস বলেন, এক সময় হরিজনরা সমাজে নিগৃহীত ছিল। বর্তমানে এর পরিবর্তন হয়েছে। সারা বছর শহর পরিষ্কারে কঠোর পরিশ্রম করি। তবে বিপদ, অসুস্থতায় পড়লে কেউ খোঁজ রাখে না।
পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৪৩ জন পরিচ্ছন্নকর্মী কাজ করেন। এছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট সেক্টরে পরিচ্ছন্নতার কর্মী হিসেবে অনেকে নিয়োজিত রয়েছেন। আবর্জনা, ড্রেনেজ পরিষ্কারসহ পৌরসভার ৩-৪ ধরনের কাজ করতে হয় তাদের।
বর্তমানে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন পুরুষকর্মীদের মাসিক ভাতা ২ হাজার ৪৫০ টাকা। আর আট নারী কর্মী পান ১ হাজার ৯৫০ টাকা। কঠোর পরিশ্রমের কাজ করলেও চাকরিও স্থায়ী নয়, মাস্টার রোলে কাজ করতে হয় তাদের। মেডিকেল ভাতা, মাতৃকালীন ছুটি, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কিছুই নেই।
হরিজন সম্প্রদায়ের নেতা জমার্দ্দার হরেন দাস বলেন, অতীতে মেয়রের নিকট হরিজনদের মানবিক জীবনযাপনের কথা তুলে ধরে ভাতা বাড়ানোর দাবি করেছি। দেশের অন্য পৌর এলাকার মতো আলাদা কলোনি তৈরির দাবি করেছি। শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। দাবি পূরণ হয়নি। মাস খানেক আগে নতুন মেয়র শপথ নিয়েছেন। তার শপথ নেয়ার পর বর্তমান পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট একই দাবি করেছি।
পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হরিজনরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা সবাই কঠোর পরিশ্রমীও। সারা বছর পরিশ্রম করে যে ভাতা পেয়ে থাকেন, তা দিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে চলতে পারেন না তারা। হরিজনদের জন্য আলাদা কলোনি তৈরির কথা তার মাথায় আছে।