

চাটমোহর (পাবনা):
স্থানীয় লোকজনের সবার জানা। মীমাংসার জন্য বারবার ঘুরছেন সমাজিপতিদের দ্বারে। নালিশ দিয়েছেন থানায়। কিন্তু পাননি প্রতিকার। আর্থিক ও সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে স্বশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন দু’বার। ঝরেছে শরীরের রক্ত। খোড়া হয়েছে একটা পা। বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রবাস ফেরত নারী আলেয়া খাতুন। ঘটনাটি পাবনার চাটমোহরের আনকুটিয়া তাহের মোড় এলাকায়।
প্রাণনাশের শঙ্কায় বর্তমানে নিজের বসতভিটাও ছেড়েছেন আনোয়ারা খাতুন। মায়ের সঙ্গে মানবেতর বসবাস করছেন বাবার বাড়িতে। আনোয়ারা খাতুনের স্বামীর নাম আবু তালেব। ঘরে তার স্বামী, দুই ছেলে আর এক মেয়ে রয়েছেন। এক ছেলের বিয়ে দেয়া এখনো বাকি। বিচার না পাওয়া এক নারী জানালেন তার অসহায়ত্ব আর নির্মম জীবন সংগ্রামের কথা।
আনোয়ারা বলেন, ৮/৯ বছর আগে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন জর্ডাণে। বৈদেশিক টাকা পাঠাতেন গ্রামে থাকা বাবার নামে। নিজের বাড়ির পাশেই একটা জমি কিনে দেয়ার কথা হয়েছিল আপন ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে। সাড়ে চার শতক সম্পত্তির দাম ঠিকঠাক করা হয়েছিল পৌনে ৭ লাখ টাকা। সাড়ে চার লাখ টাকা বাবার মাধ্যমে ফুফাতো ভাইয়ের হাতে তুলেও দিয়েছিলেন। এরপরই ফেরেন দেশে। জানতে পারেন সেই জমি রেজিস্ট্রোরি হয়েছে আরেক ফুফাতো ভাইয়ের নামে। তারপরই শুরু হয় ফুফাতো আর মামাতো ভাই-বোনের দ্বন্দ্ব। আনোয়ারার দাবি, এর জের ধরে তার উপর দুইবার স্বশস্ত্র হামলা করা হয়। ভেঙ্গে দেয়া হয় আয়ের একমাত্র অবলম্বন চায়ের দোকান। বেদম মারপিটে এক পা ল্যাংড়া হয়ে গেছে। হামলায় কোনভাবে বেঁচে যান প্রাণে। এরপর থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি। গ্রাম্য সালিশেও বিচার মেলেনি। হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছেন প্রতিপক্ষরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমি বেড়া দিয়ে ঘেরা রয়েছে। পাশেই একটা বাড়ির আঙ্গিনায় পড়ে আছে টিন। ভাংচুরের চিহ্ন স্পষ্ট। আরেকটি বাড়ি পুরোপুরি তালা দেয়া। আঙ্গিনায় জমেছে ময়লার স্তুপ। দেখলেই বুঝা যায়, এ বাড়িতে দীর্ঘদিন কেউ বসবাস করেন না। প্রতিবেশিরা দাবি করলেন- ঘটনা সত্য। কিন্তু কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
অভিযুক্ত ফুফাতো ভাই মহরম হোসেনের কথায়, টাকা নেয়ার অভিযোগটা সত্য নয়। পুরোপুরোই মিথ্যা। কোন প্রমাণ নেই। আর তাকে মারপিটও করা হয়নি। বললেন, আনোয়ার খাতুন আমার মামাতো বোন। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে চাটমোহর থানায় ও এএসপি অফিসে গেছেন উনি। কিন্তু সত্যতা পাননি পুলিশ। জানান, ইচ্ছা করলেই এ দ্বন্দ্বের সমাধান করতে পারি। কিন্তু লাভ নেই। আপোস-মীমাংসার পরেও আবার ঝামেলা করবেন তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াছিন মোল্লার কথায়, সালিশ হয়েছে সত্য। কিন্তু উনি (আনোয়ারা) সালিশ মানেনি। তাই সালিশনামা করা হয়নি।
ওসি শেখ নাসীর উদ্দিন জানিয়েছেন, আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিল আনোয়ারা খাতুন। একটা জমি নিয়ে ফুফাতো ও মামাতো ভাই-বোনের দ্বন্দ্ব। উনি জমি দখল করে দিতে বলেন পুলিশকে। আমি বলেছি পুলিশ কাউকে জমি দখল করে দিতে পারেন না। আপনি আইনের আশ্রয় নিন। প্রয়োজনে আদালতে যান। আইননুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখনো মামলা করেননি তিনি। শুনেছি আদালতে নাকি মামলা করেছেন। বসতভিটায় নিরাপদে বসবাস আর ফুফাতো ভাইকে দেয়া টাকা ফেরত পেতে পাবনা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আনোয়ারা খাতুন।