

চাটমোহর (পাবনা) :
অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিম্মাঞ্চল। ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের মাঠ। কোন কোন এলাকার শোবার ঘর পানিতে ছুঁইছুঁই করছে। ধেয়ে আসছে বানের পানি।
কয়েকদিন আষাঢ়ের টানা বর্ষণ ও উত্তর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে উপজেলার ছাইকোলা, নিমাইচড়া ও হান্ডিয়াল ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল। সেইসঙ্গে ডুবতে বসেছে কৃষকের স্বপ্ন।
চলতি মৌসুমে আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা। প্রতিবছর জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্যা দেখা দিতে শুরু করে। কিন্তু এবছর হঠাৎ করেই আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ইউনিয়নের স্থল, নলডাঙ্গা, মারিয়াস্থল, নবীন, চরনবীন, পাকপাড়া, দরাপপুর, বড়বেলাই, ভেংড়ী, বেজপাটিয়াতা, সিদ্ধিনগর গ্রামের শত শত হেক্টর জমির পাট, তিল, আউশ, কাউন ও সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে থাকা এসব ফসল পঁচতেও শুরু করেছে। এতে পরিপক্ক হওয়ার আগেই ফসল কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে অন্যের জমি বর্গা ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা প্রান্তিক চাষিরা। হঠাৎ নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়া কৃষকদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে।
হান্ডিয়ালে কৃষক রায়হান আলী (৫০), আব্দুল আলীম (৩৫) ও মকবুল হোসেন বলেন, প্রতি বারের মতো আমরা জমিতে পাট, তিল ও আউশ চাষ করেছি। কিন্তু এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে ও নদনদীর পানি হঠাৎ ব্যাপক বৃদ্ধিতে তলিয়ে গেছে আমাদের অধিকাংশ জমির ফসল। যদিও ফসল পরিপক্ক হয়ে ওঠেনি। অপরিপক্ক ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন নিয়ে আমরা চিন্তিত। পানিতে তলিয়ে থাকা কিছু ফসল কাটতেও শুরু করেছি। অপরিপক্ক পাটগাছ থেকে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক পাট উৎপাদন হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।
বড় বেলাই গ্রামের আলীম বলেন, এবছর হঠাৎ পানি বৃদ্ধির নাবি ইরি-বোরো ধান তলিয়ে যেতে শুরু করে। তাই কাঁচাপাকা ধানের শুধু ছড়া কেটে নিয়ে এসেছি। খড় কাটতে পারিনি। খড় পানিতে তলিয়ে গেছে। এবছর গো-খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে। বড় বেলাই গ্রামের আলহাজ্ব আবু বককার মিয়ার ১৪/১৫ বিঘার পাট একেবারে পানিতে তলিয়ে গেছে। এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএ মাসুম বিল্লাহ জানান, আগাম বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ধান, পাট, বোনা আমনের ক্ষতি হয়েছে।