অকেজো রেডিওথেরাপি মেশিন মেরামত করা হোক

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual5 Ad Code

সম্পাদকীয়: জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৬টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ৫টিই অকেজো বলে জানা গেছে। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল থেকে ফেরত যাচ্ছেন, যা মোটেই কাম্য নয়। ক্যানসার চিকিৎসায় দেশের একমাত্র বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ চিত্র মেনে নেওয়া যায় না। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে একটিমাত্র মেশিন সচল থাকায় হাসপাতালসংশ্লিষ্টরা রোগীর স্বজনের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে রেডিয়েশনের সিরিয়াল দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি হাসপাতালটিতে দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে, যা অনভিপ্রেত। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট সার্ভে’ শীর্ষক জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছিল-সরকারি হাসপাতালগুলোয় অন্তত ১৬ শতাংশ যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে থাকে। বিকল থাকে কমপক্ষে ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে ১৭ শতাংশ যন্ত্রপাতি সচল থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করা হয় না। অর্থাৎ সব মিলিয়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরবরাহকৃত ৫০ শতাংশ যন্ত্রপাতি রোগীদের কোনো উপকারে আসে না। তার মানে প্রতি অর্থবছরে কোটি কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতি কেনা হলেও সাধারণ মানুষ খুব একটা সুফল পাচ্ছে না। এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হওয়া দরকার।
জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে মানুষের মনে আশার প্রদীপ রূপে যে প্রতিষ্ঠানটির অধিষ্ঠান-তার নাম হাসপাতাল। দেশে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি অনেক নামিদামি বেসরকারি হাসপাতালও গড়ে উঠেছে। এসব হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা আধুনিক হলেও তা যথেষ্ট ব্যয়ববহুল, যা বহন করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। মূলত সমাজের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ, যাদের অর্থবিত্ত ও প্রাচুর্যের কমতি নেই, তারাই এসব হাসপাতালের শরণাপন্ন হন। অবশ্য বিত্তশালীদের মধ্যে কেউ কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও পাড়ি জমান। তবে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের অসুখে-বিসুখে দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোই ভরসা। এসব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর আনাগোনা লক্ষ করা যায়, যার ব্যতিক্রম নয় জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালও।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code