

সম্পাদকীয়: মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের কারণে ট্রেনগুলো গড়ে ৬৫ কিলোমিটার গতি উঠাতেও সক্ষম হচ্ছে না। এর ফলে গন্তব্যে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। উপরন্তু হঠাৎ ইঞ্জিন বিকল হওয়ার আশঙ্কায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, যা থেকে রেলকে মুক্ত করা জরুরি। উদ্বেজনক হল, ইঞ্জিন সংকটের পাশাপাশি রেলওয়েতে জনবল সংকট, বিশেষ করে লোকোমোটিভ মাস্টার তথা ট্রেনচালক সংকট চরমে উঠেছে বলে জানা গেছে। স্বাধীনতার পর সারা দেশে চলাচল উপযোগী ট্রেনের সংখ্যা ছিল ১৬০। বর্তমানে এ সংখ্যা তিন শতাধিকে উন্নীত হলেও সে অনুযায়ী নতুন চালক নিয়োগ ও তৈরির কাজটি কেন যথাযথভাবে সম্পন্ন হল না, এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে রেলে সচল ইঞ্জিন রয়েছে ২৭৩টি। ৩৪৭টি যাত্রীবাহীসহ বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী ও তেলবাহী ট্রেন চালানোর কাজে ব্যবহৃত এসব ইঞ্জিনের মধ্যে আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া অর্থাৎ ২০ বছরের বেশি বয়সী ইঞ্জিন রয়েছে ১৯৫টি। বাকি ৭৮টি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কালও ১২ থেকে ২০ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সম্ভাবনা বিনষ্ট করতে করতে একেবারে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে রেলওয়ের অস্তিত্বই এখন হুমকির সম্মুখীন। জনবল সংকটের কারণে একটার পর একটা রেলস্টেশন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জোড়াতালি দিয়ে ট্রেন চলাচলের ধারাবাহিকতা রক্ষার যে চেষ্টা চলছে, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে।