অবকাঠামো খাতের কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual4 Ad Code

অর্থনীতি ডেস্কঃ গত কয়েক মাসে অবকাঠামো খাতের মূল কাঁচামালের দাম ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সরকার গৃহীত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। সম্প্রতি এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি প্রদান করেন।

Manual1 Ad Code

চিঠিতে বলা হয়, সরকারের ব্যবসা-বান্ধব নীতি বিদ্যমান থাকায় এবং ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকায় ব্যবসায়ীরা সফলভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছে কিন্তু গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে, বিশেষ করে গত এক মাসে অবকাঠামো খাতের মূল কাঁচামাল যেমন রড, সিমেন্ট, পাথর, বিটুমিন, কপার, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদির মূল্য ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নির্মাণশিল্পের ওপর অকল্পনীয় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে বাংলাদেশে নির্মাণ ব্যয় এমন একটি পর্যায়ে পৗঁছেছে যে, ঠিকাদারদের পক্ষে তাদের চলমান এবং আসন্ন প্রকল্পগুলোর কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্যে সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দেশের নির্মাণ খাত অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং বিদেশি ঠিকাদারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বেশির ভাগ স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হয়ে গেলে তাদের অর্থায়ন করা দেশের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানও খেলাপি ঋণের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Manual4 Ad Code

চিঠিতে আরও বলা হয়, গত তিন মাস ধরে দেশের ইস্পাত ও সিমেন্ট উৎপাদনকারী কোম্পানিসমূহ সিন্ডিকেট করে অযৌক্তিকভাবে রড ও সিমেন্টের মূল্য বাড়িয়ে চলেছে। এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি শুধু নির্মাণ ও আবাসন শিল্পের ওপরই বিরূপ প্রভাব ফেলছে তা নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকেও ব্যাপক ভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই দেশের নির্মাণ খাতে চলমান অস্থিরতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করেন ব্যবসায়ীরা। দেশের নির্মাণ খাত এবং স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষার্থে এফবিসিসিআই কিছু স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ জানিয়েছেন। এর মধ্যে অনতিবিলম্বে বাইরের যে কোনো দেশ থেকে রড আমদানি করার অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে দরপত্র জমা দেওয়ার পর আইনগত কোনো পরিবর্তনের কারণে যদি প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, তাহলে ঠিকাদারকে অবশ্যই সেই বর্ধিত ব্যয়ের সমমূল্য প্রদান করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশের মধ্যে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক অর্থায়িত প্রকল্পসমূহে বিদেশি দরদাতাদের অংশগ্রহণ জোরালোভাবে নিরুত্সাহিত করতে হবে। সরকার কর্তৃক অর্থায়িত প্রকল্পসমূহে স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানসমূহকে সাড়ে ৭ শতাংশ অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিয়োগকর্তার অদক্ষতা বা অদূরদর্শিতার কারণে ঘটা বিলম্বের জন্য ঠিকাদারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান দরপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

Manual4 Ad Code

একইভাবে, কোনো ঠিকাদার যদি চুক্তিতে উল্লেখিত সময় এবং মান অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে ঠিকাদারের ওপরও ক্ষতিপূরণ আরোপের বিধান থাকা উচিত। দেশের নির্মাণশিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কনসালট্যান্সি খাতে সরকারকে বিশেষ মনোযোগ প্রদান করতে হবে। এজন্য সকল কনসালট্যান্সি দরপত্রের শর্ত এমনভাবে আরোপ করতে হবে যাতে বিদেশি কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্রে অংশগ্রহণ করার সময় কমপক্ষে একটি স্থানীয় কনসালট্যান্সি কোম্পানিকে তাদের অংশীদার হিসেবে নিতে বাধ্য থাকে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code