অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক আঘাত করবে করোনা: অর্থমন্ত্রী

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual7 Ad Code

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, করোনাভাইরাস বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক আঘাত করতে পারে। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শাটডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যা এ শিল্পের জন্য ক্ষতি বয়ে আনছে। এছাড়া অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে। করোনার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা ফেরত আসছে। এটি রেমিটেন্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে

 

Manual2 Ad Code

বুধবার বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

Manual7 Ad Code

করোনা পরিস্থিতি ও সহযোগিতা নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদর দফতরে এ কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী।

একই সঙ্গে নিজ দফতর থেকে এ কনফারেন্সে যুক্ত হন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. ফজলে কবির। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন।

 

Manual2 Ad Code

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল আরও বলেন, কোনো দেশের একার পক্ষে এ রকম একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সম্ভব নয়। ফলে এ সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমরা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপকে পাশে থাকার অনুরোধ করব। বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত তিন বছর ধরে ধারাবাহিক সাত শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির ৮ দশমিক ২ শতাংশ আশা করেছিলাম। প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি হল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বিশ্লেষণে এ আশঙ্কা করা হয়। বাংলাদেশ যখন আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জনসহ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায়,এমন একটি সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্ব অর্থনীতি করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন।

তিনি বলেন, পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনাভাইরাসের কারণে আজ মানব সম্প্রদায়ের জীবন ও অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। এমন একটি মুহূর্তে এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফ-এর প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজ এ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা সবাই জড়ো হয়েছি কিছু উপায় এবং পথ খুঁজে বের করে এ পৃথিবীর মানব সম্প্রদায়ের কাছে আশার একটি আলোক প্রদর্শন করার জন্য।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, এ মারাত্মকভাইরাসের সংক্রমণ অতি দ্রুত ছড়ায়। করোনা সংক্রমণ রোধে মরিয়া পদক্ষেপ হচ্ছে অভূতপূর্ব লকডাউন, শাটডাউন এবং যোগাযোগ ব্যাহতকরণ, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিবার্যভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজার ইতিমধ্যে ২৮ থেকে ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ মন্দা দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক তহবিল গঠন করেছে। পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে আইএমএফ। এ অর্থের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার পাবে স্বল্প আয়ের দেশগুলো। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ বড় ধরনের সহযোগিতা আশা করছে। সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সংস্থা দুটিকে পাশে পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code