

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা: ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন অন্যতম শক্তিশালী দলের মধ্যে একটি। তবে একটা সময় ছিল বাংলাদেশকে বলে বলে হারাতো ক্রিকেট বিশ্বের দলগুলো। কিন্তু এখন আর সেই সময় নেই। টাইগারদের সমীহের চোখে দেখে বিশ্ব ক্রিকেট। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছেও টাইগারদের সুনামটা পৌঁছে গেছে অনেক আগেই।
২০১০ সাল থেকেই ধীরে ধীরে পরিবর্তনটা শুরু হয় বাংলাদেশের। এর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বাংলাদেশ আগমনী বার্তা দিয়ে রাখে। আর ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকেই বিশ্ব দেখে নতুন এক বাংলাদেশকে। এরপর টাইগারদের আর ছোট করে দেখতে পারেনি কোনো দল।
সম্প্রতি আইসিসি তাদের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ দলের সেরা ৫টি জয়ের মুহূর্ত স্মরণ করেছে। ক্যাপশনে বাংলাদেশের সেরা পাঁচ স্মরণীয় মুহূর্ত লিখে সেরা পাঁচটি জয়ের ভিডিও পোস্ট করেছে আইসিসি। দেখে নেওয়া যাক আইসিসির চোখে বাংলাদেশের সেরা ৫টি জয়।
এই তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে ২০১১ বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি। আগে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে ইংল্যান্ডকে ২২৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। এরপর ব্যাট করতে নেমে ১৬৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শফিউল ইসলামের ব্যাটে ভর করে এক ওভার হাতে রেখে ২ উইকেটের জয় তুলে নেয় সাকিব আল হাসানের দল।
এরপর চার নম্বরে রয়েছে গেল ২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাওয়া জয়। দ্য ওভালে আগে ব্যাট করে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের অর্ধশতকে ৬ উইকেটে ৩৩০ রান করে টাইগররা। এটা বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড ছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে প্রোটিয়ারা। ২১ রানের জয় পায় মাশরাফি বাহিনী।
তিন নম্বরে রয়েছে ২০১৫ বিশ্বকাপের জয়। এই জয়টাও ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে আগে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ২৭৫ রান করে মাশরাফির দল। এছাড়া মুশফিক ৮৯ রান করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৬০ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ফলে ১৫ রানের জয় পায় টাইগাররা। আর এই জয়ে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
আইসিসির চোখে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা জয়ের মুহূর্ত ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়। ওয়েস্ট ইন্ডজের পোর্ট অব স্পেনে এই জয়ে দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকে জানান দিয়েছিল নতুন পরাশক্তির আগমনী বার্তা। আগে ব্যfট করতে নেমে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৯০ রানে গুটিয়ে যায় গাঙ্গুলী, শেবাগ, টেন্ডুলকার, দ্রাবিড়দের ভারত। জবাবে তামিম, মুশফিক ও সাকিবের অর্ধশতকে ৫ উইকেটর সহজ জয় পায় হাবিবুল বাশারের দল।
আইসিসির চোখে বাংলাদেশ দলের সেরা জয়ের মুহূর্ত ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি। যেটার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে সামসের দিকে এগিয়েছে। ইংল্যান্ডের নর্দাম্পটনের সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২২২ রান করে টাইগাররা। জবাবে ব্যাট করেতে নেমে ৪৪.৩ ওভারে ১৬১ অলআউট হয় ঐ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা। ৬২ রানের সহজ জয় পায় আমিনুল ইসলামের বাংলাদেশ।