

সম্পাদকীয়: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধে মন্ত্রণালয়, দপ্তর-অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে যেসব সুপারিশ করে থাকে, সেসব আমলে নেওয়া হয় না বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদনের পাতা উলটেও দেখেন না। গত সাত বছরে দুদকের করা ৪৫৬টি সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি অত্যন্ত পরিতাপের। দেশে দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে দুদক গঠন করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রের দুর্নীতি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে করণীয় বা সুপারিশমালা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর বিষয়টি ইতিবাচক। এসব সুপারিশকে গুরুত্ব না দেওয়া অবহেলার শামিল। এতে দুদকের শ্রম পণ্ড এবং অর্থের অপচয় হয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ হলো, দুদকের সুপারিশগুলো দায়সারা। কারণ, শুধু সুপারিশ করাই যথেষ্ট নয়, সেসবের বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বসে চাপ সৃষ্টি করা উচিত। যারা সুপারিশ বাস্তবায়ন করছে না, তাদের ভর্ৎসনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। তাহলে সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দুদকের মূল দায়িত্ব দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। এ কাজটি দুদক সঠিকভাবে করলে সুপারিশের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু দুদক তা করতে পারছে না। বস্তুত এজন্য দুদকের যে ক্ষমতা বা এখতিয়ার থাকা দরকার, তা পর্যাপ্ত নেই।