আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বিপর্যয়

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন করে রাখার পরও করোনা ভাইরাস ক্রমেই আরো প্রাণঘাতী হচ্ছে। চীনে গতকাল বৃহস্পতিবার আরো ৭৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৬৩ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

Manual8 Ad Code

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ (৬৭৫ মিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভাইরাসটি যাতে আর ছড়াতে না পারে এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে—এমন দেশগুলোকে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত করতে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি।

Manual7 Ad Code

এ প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহানম গেব্রিয়াসাস বলেন, ‘সবচেয়ে বড়ো দুশ্চিন্তার বিষয় হলো— এমন অনেক দেশ আছে যাদের এই ভাইরাসে সংক্রমিতদের শনাক্ত করা, এমনকি কোথা থেকে এর উদ্ভব হতে পারে, তা শনাক্ত করার মতো পদ্ধতি নেই। আক্রান্তদের শনাক্ত করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তাদের সেবা নিশ্চিতে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো ঠেকাতে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।’

 

চীনে এখনো আটকে আছে ১৭২ বাংলাদেশি। এ অবস্থায় দেশে ফিরতে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

প্রতিদিনই চীন থেকে সরাসরি অথবা অন্য কোনো দেশ হয়ে বাংলাদেশে আসছেন অনেকেই। তাদের অনেকেরই অভিযোগ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের সঠিকভাবে স্ক্যানিং করা হচ্ছে না। আবার অনেকে অভিযোগ করে বলছে, বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য।

Manual1 Ad Code

তবে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ। থার্মাল স্ক্যানার চেকিং ছাড়া কেউই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। আর এক্ষেত্রে তারা আতঙ্ক না ছড়িয়ে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে যারা এসেছে তাদের কারো মধ্যেই করোনা ভাইরাসে কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তার পরেও তাদের ক্ষেত্রে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতি মেনেই সেবা দিয়ে যাচ্ছি। একই কথা প্রযোজ্য যারা দেশের বাইরে থেকে আসছেন তাদের ক্ষেত্রেও। প্রত্যেককেই আমরা বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে চেক করিয়ে প্রবেশ করাচ্ছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশের সব মানুষকে মাস্ক পরে বাইরে ঘোরার প্রয়োজন নেই। যাদের সর্দি-কাশি-জ্বর আছে শুধু তারাই মাস্ক ব্যবহার করবে। যাতে তাদের কাছ থেকে কোনো ছোঁয়াচে রোগ অন্যদের সংক্রমিত করতে না পারে। গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে একজনও করোনা ভাইরাস রোগী নেই। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের স্বাস্থ্যখাত পূর্ণ সজাগ। ইতিমধ্যে দেশের সব নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় স্ক্যানিং মেশিন বসানো হয়েছে।

Manual1 Ad Code

দেশে বর্তমান মাস্ক সংকট আছে কি না, জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শিগিগরই জাপান সরকার বাংলাদেশকে ৬৮ লাখ মাস্ক বিনামূল্যে প্রদান করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। এগুলো দেশে এলে বাজারে মাস্কের সংকট কমে যাবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

করোনা ভাইরাসে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে এক জন চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে ফিলিপাইনসে এবং চীন শাসিত হংকংয়ের আরেক জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই জনেই উহান থেকে ঘুরে আসার পর আক্রান্ত হন। ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত যে ৫৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ৪০০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে উহানে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code