

লন্ডন ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওত বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় আমীর ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব, আল্লামা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামী রাহঃ’র ইন্তেকালে তাহাফফুজে খাতমে নবুওয়াত লন্ডনের উদ্যোগে ৬ ডিসেম্বর সোমবার জামেয়া দারুস সুন্নাহ লন্ডন মিলনায়তনে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। এতে খতমে কোরআন শরীফের মাধ্যমে মরহুম আল্লামা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামী রাহঃ’র জন্য ঈসালে সওয়াবের এহতেমাম করা হয়।
দোয়া মাহফিলে লন্ডনের প্রতিনিধিত্বশীল উলামায়ে কেরাম তাঁদের অভিব্যক্তি সূচক ও স্মৃতি চারণ মূলক বক্তব্যে বলেন, খতমে নবুওত বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় আমীর আল্লামা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামী দুঃসময়ে উম্মাহর বিচক্ষণ কান্ডারীর ভূমিকা পালন করে গেছেন। নেতৃবৃন্দ আল্লামা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামীকে উম্মাহর দরদী অভিভাবক আখ্যায়িত করে তাঁর ঐতিহাসিক দ্বিনী ও জাতীয় অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
তাহাফফুজে খাতমে নবুওয়াত লন্ডনের সেক্রেটারি ও জামেয়া দারুস সুন্নাহ লন্ডনের চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে ও জামেয়া দারুস সুন্নাহ লন্ডনের সেক্রেটারী মাওলানা হুসাইন আহমদের পরিচালনায় মরহুম আল্লামা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামীর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদীস মুফতি আবদুর রাহমান মনোহরপূরী, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা শুয়াইব আহমদ, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ, মাওলানা ছাদিকুর রহমান, মাওলানা ফয়েজ আহমদ, হাফিজ মাওলানা মুবারক আলী, মাওলানা শায়েখ ইমদাদুর রহমান আল মাদানী, মাওলানা শাহ মিজানুল হক, মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ, হাফিজ হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, মাওলানা মামনুন মহিউদ্দীন, মাও: সাইদ আলী, মাওলানা জহিরুদ্দিন, মাওলানা নাজিম উদ্দীন, মাওলানা মাহফুজ আহমদ, মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ, আলহাজ্ব ফজলুর রহমান, হাফিজ মাওলানা হুসাইন আহমদ, মাওলানা কামাল উদ্দিন, মাওলানা আজহার বিন নুর, হাফিজ ওয়ালিদ আহমদ প্রমুখ৷
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মাওলানা নূরুল ইসলাম ছিলেন একজন সংগ্রামী ও সাহসী আলিম। বাতিলের মোকাবেলায় সর্বদা ছিলেন সোচ্চার। সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সবসময় তার প্রস্তুতি থাকত। তার নেতৃত্বে ঢাকায় বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের হয়েছে। প্রায় প্রতি বছর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত খতমে নবুয়ত সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য রাখতেন। তাহাফফুজে খতমে নবুয়তের অফিস থেকে হজরত মুহাম্মদ সা: শেষ নবী, তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না; এ বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বহু পুস্তক বের করেন।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা নূরুল ইসলামের ইন্তেকালে আমরা একজন দরদী অভিভাবককে হারালাম। তাঁর এই শূন্যস্থান সহজে পুরণ হবার নয়। কওমি উলামায়ে কেরামের যে কোন সংকটে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর কাছ থেকে ব্যাপক দ্বীনি খিদমত নিয়েছেন।
সভায় আগামী ১৮ ডিসেম্বর শনিবার বিকেল ৮টায় জামেয়া দারুস সুন্নাহ লন্ডন মিলনায়তনে তাহাফফুজে খাতমে নবুওয়াত লন্ডনের কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্য এক জরুরি সভার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এতে সকলের উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে । মাহফিলে আল্লামা নুরুল ইসলাম চট্টগ্রামী রাহঃ র আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।