আড়াইহাজারে মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ও খাগকান্দা ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী গ্রাম ভাঙ্গনে কবলে পড়েছে। বসতভিটাসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ এবং নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে জাপানী অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমিসহ স্থানীয়দের বিঘা পর বিঘা আবাদী জমি। স্থানীয়রা নদী ভাঙনের জন্য অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে এসব বালু উত্তোলন নিষেধ থাকলেও পাশের জেলা কুমিল্লার মেঘনা থানা থেকে অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা আড়াইহাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা দেশিয় অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে গ্রামবাসীরা বালু উত্তোলনকারীদের ধাওয়া বেশ কয়েকবার ধাওয়া দিলে বালুদস্যুরা বৃষ্টির মত ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়ে গ্রামবাসীদের পাল্টা আক্রমন করে। গত এক মাস ধরে মেঘনা পাড়ের ক্ষতিগ্রস্তরা ঝাড়– মিছিল, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সভা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়ে আসছে।

কালাপাহাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে চরল´িপুর অধিকাংশ এলাকা ক্রমান্বয়ে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে কালাপাহাড়িয়ায় ইউনিয়নে জাপানী অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভুমি। এছাড়া নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে কান্দাপাড়া, ইসলামপুর, চরল´িপুর, তাতুয়াকান্দা, ডেঙ্গুরকান্দি, ডিব্বারচর এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমিল্লার মেঘনা থানার চিহ্নিত বালুদস্যুরা পাশের সোনারগাঁ উপজেলার ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ৫০-৬০ জন একটি সিন্ডিকেট করে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রতিদিন উপজেলার খাগকান্দা, কান্দাপাড়া, ইসলামপুর, চরল´িপুর, তাতুয়াকান্দা, ডেঙ্গুরকান্দি, ডিব্বারচর এলাকায় প্রতিদিন ৩০-৩৫টি ড্রেজার বসিয়ে মেঘনা নদীতে ড্রেজার দিয়ে তোলা বালু শতাধিক বাল্কহেডে (বালু বহনকারী ইঞ্জিনচালিত ছোট জাহাজ) নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

Manual6 Ad Code

চরলক্ষ্মিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত আলম, মোগর আলী ও স্বপন জানান, নদী ভাঙ্গনের ফলে তার নিজের বসতভিটা ও ফসলী জমি এরই মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাক হোয়াইট এর সভাপতি মহিতুল ইসলাম হিরু বলেন, নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মায়া কান্না না করে প্রশাসন যদি নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিত, তবে অনেক মানুষের ভিটেমাটি বাঁচত। অবিলম্বে এসব অবৈধ বালুখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

Manual1 Ad Code

স্থানীয়দের বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেছেন আড়াইহাজার উপজেলা চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার বলেন, প্রকাশ্যে এভাবে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত। বার বার অনুরোধের পরও তাদেরকে থামানো যাচ্ছেনা। এরা এতটাই শক্তিশালী যে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে বালু দস্যুরা সশস্ত্র অবস্থায় পাল্টা আক্রমন করে। এ ব্যাপারে, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহাগ হোসেন জানান, ইতিমধ্যে কয়েকবার মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা অনেক সময় আমাদের আসার খবর শুনে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বালু উত্তোলনে যারা জড়িত তারা অধিকাংশই কুমিল্লা জেলার। আড়াইহাজারের সীমানায় প্রবেশ করে বালু উত্তোলন করে থাকে। এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজাকে অবহিত করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code