ইতিহাসের সাক্ষী ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual3 Ad Code

সবুজ ঘাসের গালিচায় শোভা পাচ্ছে হরেক রকমের ফুল। গাছ-গাছালি ঘিরে সুনসান নীরবতা। এখানেই শায়িত আছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকেরা। বলছি ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রির কথা। ঘুরে এসে বিস্তারিত জানাচ্ছেন নাহিদ হাসান-

Manual8 Ad Code

 

কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি। ১৯৪১-৪৫ সালে বার্মায় (বর্তমান মায়ানমার) সংঘঠিত যুদ্ধে যে ৪৫ হাজার সৈনিক নিহত হন। তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা), আসাম এবং বাংলাদেশে মোট নয়টি রণ সামাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়। বাংলাদেশ দুটি কমনওয়েলথ রণ সমাধিক্ষেত্র আছে। যার অন্যটি চট্টগ্রামে অবস্থিত। প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের বহু দর্শনার্থী যুদ্ধে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসব রণ সমাধিক্ষেত্রে আসেন।

 

 

Manual7 Ad Code

 

 

 

ADVERTISEMENT

জানা যায়, ময়নামতি রণ সমাধিক্ষেত্র মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-১৯৪৫) নিহত ভারতীয় (তৎকালীন) ও ব্রিটিশ সৈন্যদের কবরস্থান। এটি ১৯৪৩-১৯৪৪ সালে তৈরি করা হয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই সমাধিক্ষেত্রের অবস্থান। সামাধিক্ষেত্রটি কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন (সিডব্লিউজিসি) ওই সময়ে প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাই তারাই এটি পরিচালনা করেন। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে সব ধর্মের ধর্মগুরুদের সমন্বয়ে এখানে একটি বার্ষিক প্রার্থনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

Manual2 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

 

তৎকালীন ময়নামতি একটি ছোট গ্রাম হলেও সেনাবাহিনীর একটি বড় ঘাঁটিতে পরিণত হয়। এখানে বড় একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। এছাড়াও কুমিল্লা ছিল যুদ্ধ-সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্র, বিমানঘাঁটি আর ১৯৪৪ সালে ইম্ফলে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে চতুর্দশ সেনাবাহিনী সদর দফতর।

 

এ সমাধিক্ষেত্রে মোট ৭৩৬টি কবর আছে। এরমধ্যে অধিকাংশই সেই সময়কার হাসপাতালে মৃত সৈনিক। তাছাড়া যুদ্ধের পর বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু মরদেহ স্থানান্তর করে এখানে সমাহিত করা হয়। বাহিনী অনুযায়ী এখানে মোট ৩ জন নাবিক, ৫৬৭ জন সৈনিক এবং ১৬৬ জন বৈমানিক সমাহিত আছেন। সর্বমোট ৭২৩ জন নিহতের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code