ইমান নষ্ট হওয়ার কারণ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: শরিয়তের কোনো সওয়াব বা শাস্তির বিধান নিয়ে ঠাট্টা করা

যদি কোনো মুমিন-মুসলমান ইসলামি শরিয়তের কোনো সওয়াবের বা শাস্তির বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেন, তাহলে তাঁর ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আপনি বলুন! তোমরা কি আল্লাহর সঙ্গে তাঁর হুকুম-আহকামের সঙ্গে এবং তাঁর রাসুলের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলে? ছলনা কোরো না। ইমান আনার পর তোমরা কাফির হয়ে গেছ।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ৬৫-৬৬)

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সুরা জাসিয়ার ৯, সুরা ফুরকানের ৪১-৪২, মুতাফফিফীনের ২৯-৩৩ এবং আলে ইমরানের ১০৬ নম্বর আয়াতেও আলোচনা করা হয়েছে।

এক ব্যক্তির ঠাট্টা-মশকরার জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তাদের বলো! তোমাদের হাসি-তামাশা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত এবং তাঁর রাসুলের সঙ্গে ছিল? এখন আর ওজর পেশ কোরো না। তোমরা ইমান আনার পর কুফুরি করেছ।’ (তাফসিরে তারাবি, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৭২)

জাদু বা তন্ত্র-মন্ত্রের প্রয়োগে কিছু করার চেষ্টা

যদি কোনো মুমিন-মুসলমান জাদুর মাধ্যমে ভালো কিছু অর্জন ও মন্দ কিছু বর্জন করেন এবং প্রকাশ্য ও গোপন তন্ত্র-মন্ত্র বা জাদুর মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি সাধন করেন, তাহলে তাঁর ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘কিন্তু শয়তানরাই কুফুরি করেছিল এবং তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত। তারা ভালোভাবেই জানে, যে জাদু অবলম্বন করে; পরকালে তার কোনো অংশ নেই।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২)

এ ছাড়া এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা ত্বহার ৬৬, সুরা নামলের ৬৫ নম্বর আয়াতে আলোচনা আছে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধ্বংসাত্মক সাতটি কাজ বা বস্তু থেকে বেঁচে থাকো। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করল, সেগুলো কী? রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, জাদু করা।’ (বুখারি, হাদিস: ২৭৬৬, মুসলিম, হাদিস: ৮৯)

মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফির বা মুশরিকদের সাহায্য করা

যদি কোনো মুমিন-মুসলমান কোনো কাফির বা মুশরিককে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাহায্য-সহযোগিতা করেন, তাহলে তাঁর ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা তাদের (বিধর্মী) সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের পথপ্রদর্শন করেন না।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৫১)

Manual4 Ad Code

এ ছাড়া এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১৩৮-১৩৯, সুরা মায়েদার ৬২-৬৩, সুরা হাশরের ১১, সুরা নাহলের ১০৭ এবং সুরা মুজাদালাহর ২২ নম্বর আয়াতে আলোচনা বিবৃত হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বিবেচিত হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১)

ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবনবিধান গ্রহণ বা সেটাকে উত্তম ভাবা

Manual5 Ad Code

যদি কোনো মুমিন-মুসলমান ইসলাম বা রাসুল (সা.) আনীত জীবনবিধান ছাড়া অন্য কোনো জীবনবিধান গ্রহণ করেন বা সেটাকে উত্তম ভাবেন, তাহলে তাঁর ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করবে, তার কোনো আমল গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫)

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সুরা সাবার ২৮, সুরা আরাফের ১৫৮, সুরা ফুরকানের ১ এবং সুরা আলে ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতেও আলোচনা রয়েছে।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! এই উম্মতের কোনো ব্যক্তি, হোক সে ইহুদি বা নাসারা; যদি সে আমার আগমনের কথা শোনার পরও আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ইমান না এনে মারা যায়, তাহলে সে জাহান্নামিদের দলর্ভুক্ত হবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৫৩)

আল্লাহর মনোনীত দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া

Manual1 Ad Code

যদি কোনো মুমিন-মুসলমান আল্লাহর মনোনীত দ্বীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তার ইমান নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ প্রদান করা হয়। অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তার চেয়ে জালিম আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) অপরাধীদের শাস্তি দেব। (সুরা সিজদাহ, আয়াত: ২২)

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে সুরা আহকাফের ৩, সুরা আলে ইমরানের ৩২, লাইলের ১৪-১৬ এবং সুরা নুরের ৪৭ নম্বর আয়াতেও আলোচনা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামের পরিবর্তে অন্য কোনো ধর্মের ওপর শপথ করবে, সে ওই ধর্মের অনুসারী বলে গণ্য হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ১৩৬৪, মুসলিম, হাদিস: ১১০)

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code