ইসরায়েলের প্রস্তাবে রাজি নয় হামাস, চায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ২ years ago

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক : গাজায় ১৮ মাস ধরে চলা ভয়াবহ সংঘাতের আবহে যখন সবাই একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আশায় তাকিয়ে, তখন সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লাগল। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে ছয় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। কারণ, প্রস্তাবটির মূলকাঠামোতে ছিল অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান, কিন্তু ছিল না যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি বা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো মৌলিক প্রতিশ্রুতি।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তুলে দেন। এতে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব থাকলেও হামাসকে জীবিত জিম্মিদের অর্ধেক মুক্তির শর্তে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। তবে এই প্রস্তাবে হামাসের মৌলিক দাবি—গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তির বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না, যা ফিলিস্তিনি পক্ষের জন্য ছিল একপ্রকার ‘রেডলাইন’।

Manual4 Ad Code

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেন, মিসরের মাধ্যমে আসা প্রস্তাবটি একতরফা শর্তে তৈরি, যেখানে শুধু হামাসকে নিরস্ত্র হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবের ভাষা এবং ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্টত একধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। হামাস জানিয়েছে, তারা তাদের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত, তবে বিনিময়ে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সেনা প্রত্যাহার চায়, শুধু যুদ্ধের ‘বিরতি’ নয়।

Manual3 Ad Code

এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির নামে সময়ক্ষেপণ করছে এবং এটি আসলে হামাসের হাতে থাকা বাকি জিম্মিদের উদ্ধারে কৌশল মাত্র। কায়রোয় হামাসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মিসরের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বৈঠক হলেও এখনো কোনো পক্ষ যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য অগ্রগতির বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানায়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমও এ বিষয়ে নীরব।

Manual3 Ad Code

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, গাজায় চলমান ১৮ মাসের সংঘাতের মধ্যে এখনকার মানবিক অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ লক্ষাধিক নিরীহ মানুষ যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—একটি গ্রহণযোগ্য ও সম্মানজনক যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হবে, নাকি এই সংকট আরও দীর্ঘ হবে? যুদ্ধবিরতির নামে যদি আত্মসমর্পণ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে স্থায়ী শান্তি যে অধরাই থেকে যাবে, তা যেন আবারও প্রমাণিত হলো। তথ্যসূত্র : বিবিসি

Desk: K

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code