

স্পোর্টস ডেস্কঃ অনেক আশা-ভরসা নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশনে এসেছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু প্রথম রাউন্ডেই পা হড়কানো শুরু।
আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত চাপের বৈতরণি পার করে সুপার-টুয়েলভ পর্বে উঠতে পেরেছে টাইগাররা।
মূল পর্বে আসার পর আবারও খাদের কিনারে দাঁড়িয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ব্যাটে-বলে, ফিল্ডিংয়ে নাজুক পারফরম্যান্স। এর মধ্যে নানা বিবাদে জড়িয়েছেন দলের খেলোয়াড়, কোচ, বোর্ড ম্যানেজমেন্ট এবং সাবেক তারকা খেলোয়াড়রা। বাদ যায়নি ক্রিকেটারদের পরিবারও। পারস্পরিক দোষারোপ ও কাদা ছোড়াছুড়িতেই ব্যস্ত সবাই।
শুরুটা করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর দলের কোচ ও কোচিং স্টাফদের একহাত নিয়েছিলেন তিনি। গত দুটি খেলায় হেরে যাওয়ার পর টাইগারদের নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা আসতে থাকে নানা দিক থেকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর কয়েক জন ক্রিকেটারের বিষয়ে নানা ধরনের বিষোদ্গার শুরু হয়।
কাছাকাছি শক্তিমত্তার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লিটন দাসের দুটি ক্যাচ মিসে ডুবে গিয়েছিল জয়ের সূর্য। এর চড়া মূল্যই হয়তো দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পায়নি দলটি। আজ (২৯ অক্টোবর) প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দৃশ্যত এবারও বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ দলের শূন্য হাতে দেশে ফেরার ছবিটাই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
দলের এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্স পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছে। চারদিক থেকে সমালোচনার তির ধেয়ে আসছে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দলের ব্যর্থতায় কোচদেরও দায় দিতে হবে, শুধু ক্রিকেটারদের নয়। তার মতে, বাংলাদেশ দলের কোচিং প্যানেলটা দক্ষিণ আফ্রিকার রিহ্যাব সেন্টার।’
সার্বিক সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ক্রিকেটাররাও। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘দলকে ছোট করায় আহত বোধ করেছেন তারা। অস্বাস্থ্যকর সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।’ সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিম বলেছেন, ‘সমালোচকেরা যেন আয়নায় মুখ দেখে নেয়।’ হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘বাইরের দিকে নজর না দিয়ে ম্যাচে ফোকাস করছেন। কিন্তু তাতে ফল মিলছে না।’ গত বুধবার ক্রিকেটার নাসুম আহমেদ অকপটেই বলেছেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু আমাদের দ্বারা হচ্ছে না।’
কোচ, ক্রিকেটার, বোর্ড, সমর্থকদের পর আলোচনায় জড়িয়ে গেছে ক্রিকেটারদের পরিবারও। গতকাল এই স্রোতে যোগ দিলেন সাকিব আল হাসানের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির। বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ দলের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে ফেসবুকে শিশির তুলে এনেছেন ২০১৯ বিশ্বকাপকে। যেখানে সাকিবের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশ বিশ্বকাপে সেমিতে খেলতে পারেনি। কয়েকবার সম্পাদিত স্ট্যাটাসে ২০১৯ বিশ্বকাপের ওপেনিং জুটিকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তখন ওপেনার ছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার।
শিশির লিখেছেন, ‘আমরা কি ২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে একটু কথা বলতে পারি? ভাবতে অবাক লাগে, আমরা কীভাবে ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলকে হারাতে পারিনি, যখন আমাদের দ্রুতগতির বোলার ও সেরা উদ্বোধনী জুটি ছিল। সেসব ম্যাচে কী ভুল হয়েছিল, আমার কৌতূহলী মন তা জানতে চায়। সেই একই অবকাঠামো এখনো আছে, তাহলে এখন এত কথা হচ্ছে কেন? তখন যদি টকশোতে সেসব ভুল নিয়ে আলোচনা হতো, তাহলে এখন ব্যর্থ হতো না।’
টানা হার, স্রোতের মতো ধেয়ে আসা সমালোচনার ঝড়ে এই মুহূর্তে টালমাটাল বাংলাদেশ দল। এটুকু নিশ্চিত, দলটার আত্মবিশ্বাস এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অস্তাচলের পথে এখন টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন! পাহাড়সম চাপ ঠেলে আজ মাঠে পারফর্ম করতে হবে মাহমুদউল্লাহ-সাকিবদের। শারজাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটা কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই বাংলাদেশের জন্য। চাপের মহাসমুদ্র পাড়ি দিয়ে জয়ের তরি তীরে ভেড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন দলের সামনে।
একটা ‘জয়’ প্রশান্তির বাতাস বইয়ে দিতে পারে সর্বত্র। বাদানুবাদ, জবাবের পালা থামাতে পারে টাইগারদের জয়। সাকিব-মুশফিকরা আজ সেই কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দেবেন, এমনটাই সবার আশা।