করোনার নতুন ধরন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

করোনাভাইরাসের নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। এর উৎপত্তি দক্ষিণ আফ্রিকায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধরনটি মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, এটি ব্যাপকভাবে আচরণ পরিবর্তন করেছে। ধরনটির নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.১.৫২৯। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে শুক্রবার বৈঠক করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশেও সতর্কতার সঙ্গে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ এসেছে।

বিবিসি ও পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি প্রদেশে কিছু মানুষ নতুন ধরনে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাস্তবে এটি আরও ছড়িয়ে গেছে। আফ্রিকান ভেরিয়েন্ট ঠেকাতে বাংলাদেশেও সতর্কতার পাশাপাশি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘ভয়াবহ’ এই ধরনটির সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি দেশ- দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, লেসোথো, এসওয়াতিনি থেকে সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। ধরনটি কতটা দ্রুত ছড়াতে পারে, প্রচলিত টিকার মাধ্যমে এর সংক্রমণ থেকে কতটা রক্ষা পাওয়া সম্ভব এবং সুরক্ষা পেতে আর কী করা যেতে পারে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে।

Manual2 Ad Code

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের সংক্রামক রোগবিষয়ক সংস্থা ইমপেরিয়াল ডিপার্টমেন্ট অব ইনফেকশাস ডিজিজের এক ভাইরোলজিস্ট নতুন ধরনটিকে ভয়াবহ ও এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে খারাপ ধরন বলে বর্ণনা করেছেন।

Manual3 Ad Code

দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক অধ্যাপক টুলিও ডি অলিভিয়েরা বলেছেন, নতুন ধরনটির আচরণ পরিবর্তনের ধারা অস্বাভাবিক এবং অন্যান্য ধরনটি থেকে এটি অনেক ভিন্ন। ধরনটি আমাদের অবাক করেছে। বিবর্তনের হিসাবে এবং পরবর্তী আচরণ পরিবর্তনের হিসাব করলে এটি কয়েক ধাপ লাফ দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও হংকংয়ে মোট ৫৯ জন বি.১.১.৫২৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Manual8 Ad Code

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বৈঠক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈঠকের বিষয়ে অধ্যাপক অলিভেয়েরা বলেন, ধরনটি নিয়ে ভীত ছিলাম। এরপর গত সপ্তাহে এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি। তারা এ নিয়ে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন। অলিভেয়েরার ধারণা, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গসহ গৌতেং এলাকায় নতুন শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীদের ৯০ শতাংশ নতুন ধরনে আক্রান্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নতুন যে ধরনই শনাক্ত হচ্ছে, সেটিরই সংক্রমণ ক্ষমতা ডেলটা ধরনের চেয়ে বেশি। ফলে করোনা মহামারি ইতি টানার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে এসব ধরন। নতুন ধরন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখ্য বৈজ্ঞানিক সৌম্য স্বামীনাথান বলেন, এটি একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে, যা বিপজ্জনক।

বাংলাদেশের করণীয় :স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনটি অত্যন্ত সংক্রমণপ্রবণ। বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও কোনো না কোনোভাবে ওই ধরনটি চলে আসবে। সুতরাং এটি পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। একই সঙ্গে টিকাকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাতে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা যায়। তাহলে ওই ধরন এলেও তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, যে কোনো নতুন ধরন বিপজ্জনক। সুতরাং আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গত দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, শীতকালে করোনার সংক্রমণ কিছুটা কম হয়। নতুন ওই ধরনটি ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশে তা ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চ নাগাদ সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এর আগে সিংহভাগ মানুষকে টিকাকরণের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ হয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং সংক্রমণপ্রবণ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিছিন্ন রাখতে হবে। সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code