করোনা’য় অমাণবিক সিলেট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যমুলক আচরণ!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি :করোনাকালীন সময়ে দুস্থ ও অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। তবে এক্ষেত্রে সমালোনাচনায় এসেছে সিলেটের শতবর্ষের সাংবাদিকতার স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাব। তারা সহায়তা বিতরণে প্রধান্য দিয়েছে সাধারণ সদস্যদের। এরমধ্যে বেশির ভাগ’ই স্বচ্ছল সাংবাদিক। তবে এ সুবিধা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে সহযোগী সদস্যদের। তাদের অভিযোগ, সাধারণ সদস্যদের নিয়মিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও উপহার সামগ্রী দিলেও প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ সহযোগী সদস্যদের তা থেকে বঞ্চিত রাখছেন। আর এমন ঘটনাকে চরম অমাণবিক ও বৈষম্য বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)সহ খোদ প্রেসক্লাবেরই অনেক সদস্য।

করোনা ভাইরাসে দেশের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সরকারসহ নানা প্রতিষ্ঠান জনগণকে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করছে। এ থেকে পিছিয়ে নেই সাংবাদিক সংগঠনগুলোও। এরইমধ্যে গত মাসে সিলেট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠানটির সদস্যদের নগদ টাকা অনুদান দেয়ার মহৎ উদ্যোগ নেন।
জানা গেছে, পরবর্তি সময়ে তারা প্রত্যেক সদস্যদের মধ্যে সেই টাকা বিতরণ করেন; তবে কোনো খোঁজই নেননি সহযোগী সদস্যদের।

Manual7 Ad Code

সিলেট প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য ও বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রে কর্মরত সৈয়দ সাইমূম আনজুম ইভান অভিযোগ করেন, ‘আমাদের যখন সহযোগী সদস্য করা হয় তখন বলা হয়েছিল শুধুমাত্র ভোটাধিকার ছাড়া সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা পাব। কিন্তু এখন দেখছি কোনো বিষয়ে আমাদের খোঁজই নেয়া হয় না। এটা খুবই দু:খজনক। আর বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে যে অনুদান দেয়া হয়েছে, সেই তালিকায় আমাদের নাম না থাকাও হতাশজনক। কারণ আমরাতো একই ছায়ার নিচে আছি।’
একই অভিযোগ করে আরেক সহযোগী সদস্য স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদের আলোকচিত্রী সাংবাদিক হুমায়ূন কবির লিটন বলেন, ‘প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের এমন বৈষম্যমুলক সিদ্ধান্তে আমরা সত্যিই মর্মাহত। গঠনতন্ত্রের কোথাও নেই যে সহযোগী সদস্যরা কোনো সুবিধা পাবে না’।

Manual3 Ad Code

শুধু ভোটাধিকার নেই বলেই সহযোগী সদস্যরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত কি-না গত ২৪ এপ্রিল রাতে এমন প্রশ্ন করা হলে প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, ‘না বিষয়টি ঠিক নয়। করোনকালীন সময়ে সহযোগী সদস্যরাও অনুদান পাওয়া উচিৎ, তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। এছাড়া ফান্ডেরও কিছুটা সংকট ছিল। বিষয়টি আলোচনা করে দেখব।’

Manual3 Ad Code

তবে এবিষয়ে গত এক মাসেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি-না জানতে চাইলে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মো. রেনু বলেন ভিন্ন কথা। তার মতে, সহযোগী সদস্যদের প্রতি কোনো অবিচার করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘সম্মানজনক ভাবে তাদের এ পদ দেয়া হয়েছে। অনেকে এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। বাড়াবাড়ি করলে আমরাও দেখবো।’

Manual6 Ad Code

প্রেসক্লাবেরই বর্তমান সদস্য ও সাবেক সহ-সভাপতি দেশ টিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী বলেন, ‘সহযোগী সদস্যরাও সাংবাদিক। তাদের অনেকেই পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছেন। হয়তো সঙ্গত কোনো কারণে পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ পাননি বা নিচ্ছেন না। তবে নিয়ম অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধাই তারা পাওয়ার কথা। এছাড়া বর্তমান করোনাকালীন সময়ে অবশ্যই অন্যদের মতো তাদেরও অনুদান দেয়া উচিত।’

এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট-এর সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। আর সেই বিবেকের সংগঠনের কাছ থেকে এ ধরণের বিবেকহীন অমাণবিক আচরণ কোনো ভাবেই কাম্য নয়। সহযোগী সদস্যরা একই ছায়ার নিচে আছেন। এসব ঘটনা অবশ্যই তাদের সাথে বৈষম্যমুলক আচরণ করেছেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।’সূত্র-দৈনিক সংবাদ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code