করোনা প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে লাল বাহিনী

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে করোনা প্রতিরোধে লালবাহিনীর জীবাণুনাশক স্প্রে। এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় চলছে এ কার্যক্রম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একদল যুবক পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) ও লাল রঙের এপ্রোন, পায়ে রাবারের জুতা, হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক পরে স্প্রে মেশিন নিয়ে শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একত্রিত হয়েছে। যুবকরা স্প্রে মেশিনে জীবাণুনাশকর সহযোগিতায় শ্যামগঞ্জে জীবাণুনাশক (ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত পানি) ভর্তি করে চলে যাচ্ছে বাজারের বিভিন্ন এলাকায়। করোনা সংক্রমণ রোধে প্রতিদিন শহরের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় জীবাণুনাশক ছিটান যুবকদের এই দলটি। যুবকদের গায়ে লাল রঙের এপ্রোন জড়ানো থাকে বলে এলাকাবাসী তাদের নাম দিয়েছে লালবাহিনী। তাদেরকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক গোবিন্দ বণিক।
জানা গেছে, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা শ্যামগঞ্জ বাজার। এখানে প্রায় ৫০ হাজার লোকের বসবাস। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশেপাশের এলাকায় সচেতনমূলক কার্যক্রম সহ জীবাণুনাশক ছিটানো হলেও শ্যামগঞ্জে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এমন অবস্থায় করোনা প্রতিরোধ ও শ্যামগঞ্জকে নিরাপদ রাখতে উদ্যোগী হন স্কুলশিক্ষক গোবিন্দ বণিক। পরে এই শিক্ষকের উদ্যোগে যুক্ত হয় এলাকাবাসী ও স্বপ্ন সমবায় সমিতি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সহযোগিতার হাত বাড়ান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা, স্কুল শিক্ষক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ সহ শ্যামগঞ্জের বাসিন্দারা।
এরপর কাজ শুরু হয় বৃহৎ পরিসরে। শ্যামগঞ্জ এলাকাকে দশভাগে ভাগ করে প্রতিদিন জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজ শুরু হয়। এই কাজে পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয় লালবাহিনীর সদস্যদের। তাদের সুরক্ষার জন্য দেয়া হয় পিপিই সহ সুরক্ষা সরঞ্জাম।
মঙ্গলবার সকালে লালবাহিনী সদস্যরা ঘুরে ঘুরে শ্যামগঞ্জের অলি-গলি, রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট, সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জীবানুনাশক ছিটান। করোনারোধে আহ্বান জানান সবাইকে ঘরে থাকার। মেনে চলতে বলেন সরকার ও স্বাস্থ্যবিভাগের বিধি-নিষেধ।
ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজহারুল ইসলাম মুকুল বলেন, আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করছি। মাঠ পর্যায়ের কাজটা লালবাহিনী করছে। তাই পারিশ্রমিক বিবেচনায় তাদের অবদানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এখানে এলাকাবাসীর প্রতি তাদের কর্তব্য ও ভালোবাসাও জড়িত। গোবিন্দ বণিক বলেন, করোনা প্রতিরোধে সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কাজ দেখে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদের সাথে যোগাযোগ করে উৎসাহ দিয়েছেন। দ্রুত আমাদের ফান্ড থেকে ত্রাণ সহযোগিতা দেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেজুতি ধর বলেন, করোনা প্রতিরোধে লালবাহিনীর কাজ অন্যান্য এলাকাতেও অনুকরণীয় হতে পারে। আমরা তাদের কাজ পরিদর্শন করে ব্লিচিং পাউডার দিয়েছি। পাশাপাশি দিক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code