

ডেস্ক রিপোর্ট : স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কানাডার বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৯ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৬.৭ শতাংশ। যদিও অর্থনীতিতে মোট ৭ হাজার ৪০০টি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তারপরও শ্রমবাজারে দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট খাতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্কের প্রভাবে কানাডার রপ্তানি নির্ভর খাতগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এর ফলে উৎপাদন খাতে ৩১ হাজার এবং পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যে ২৭ হাজার কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। এই হ্রাস ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর থেকে এ খাতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মন্দা বলে বিবেচিত হচ্ছে। একইসঙ্গে নির্মাণ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও আতিথেয়তা খাতেও কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি খাতে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে। জনপ্রশাসনে ৩৭ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে, যা চলতি বছরের ফেডারেল নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত অস্থায়ী নিয়োগের কারণে হয়েছে। এছাড়া রিয়েল এস্টেট, অর্থ, বীমা, ভাড়া ও লিজিং খাতেও ২৪ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে, যার ফলে অক্টোবর থেকে এ খাতে মোট ৬৪ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ব্যাংক অফ মন্ট্রিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ডগলাস পোর্টার বলেন, জনপ্রশাসনে নিয়োগ না থাকলে এপ্রিল মাসের চিত্র মার্চের মতোই হত, যেখানে ৩০ হাজার চাকরি হ্রাস পেয়েছিল। এটা একটি দুর্বল প্রতিবেদন, বোঝার জন্য খুব বেশি বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়ে না।
চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। এপ্রিল মাসে কাজ খুঁজছেন বা অস্থায়ীভাবে ছাঁটাই হয়েছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার এ। গত বছরের তুলনায় এটি ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি। বেকারদের মধ্যে ৬১ শতাংশ ব্যক্তি এপ্রিল মাসে এখনও চাকরি পাননি, যেখানে ২০২৪ সালের একই সময় এই হার ছিল ৫৭.৩ শতাংশ। তবে গড় কর্মঘণ্টা এবং মজুরিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এপ্রিল মাসে মোট কর্মঘণ্টা ০.৪ শতাংশ বেড়েছে এবং বছরে তা ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৪ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক অফ কানাডা এপ্রিল মাসে নীতিগত সুদের হার ২.৭৫ শতাংশে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, জুন মাসে ২৫ বেসিস পয়েন্ট হার কমানোর সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে।
রোজেনবার্গ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস ইনকর্পোরেটেডের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড রোজেনবার্গ বলেন, শ্রমবাজারে শিথিলতা এখন ব্যাংক অফ কানাডার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সমস্ত ইঙ্গিত এখন নিম্ন সুদের হার ও দুর্বল কানাডিয়ান ডলারের দিকে নির্দেশ করছে। চাকরির বাজারে এই অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা কানাডার অর্থনীতির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অর্থনীতিবিদ ব্রেন্ডন বার্নার্ড সতর্ক করে বলেছেন, এপ্রিলের চাকরির পরিসংখ্যান আমাদের দেখাচ্ছে, বাণিজ্য উত্তেজনা যদি প্রশমিত না হয়, তাহলে কানাডার অর্থনীতি আরও বড় নেতিবাচক মোড় নিতে পারে।
Desk: K