কার্যকারিতা খতিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual6 Ad Code

সম্পাদকীয়:

বিগত সরকারের আমলে শুধু অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নানা অযৌক্তিক প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি বহুল আলোচিত। স্থলবন্দর নির্মাণেও তেমনটাই দেখা গেছে।

শনিবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি স্থলবন্দর। ওই তিন বন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৬০.৪ একর জমি। সেখানে অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে অন্তত ১৪৩ কোটি টাকা।

Manual7 Ad Code

অথচ এ তিনটি স্থলবন্দর চলছে ঢিমেতালে। পণ্য না থাকায় কখনো কখনো বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকে। যদিও এসব বন্দরে রাজস্ব বিভাগ, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অবস্থান করতে হয়।

Manual8 Ad Code

এ পর্যন্ত এই তিন স্থলবন্দর থেকে ২০ কোটি টাকাও আয় হয়নি কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে, স্থলবন্দর তিনটি নির্মাণের নেপথ্যে ছিলেন বিগত সরকারের তিনজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এক মুখ্য সচিব। বন্দর তিনটি হচ্ছে-শেরপুরের নাকগাঁও, ময়মনসিংহের গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী এবং জামালপুরের ধানুয়া-কামালপুর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিন জেলায় একটি অথবা সর্বোচ্চ দুটি স্থলবন্দরই যথেষ্ট। অথচ সেখানে তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মাত্র তিন কিলোমিটার ব্যবধানে গোবড়াকুড়া ও কড়ইতলী নামে দুটি পৃথক শুল্ক স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে, যদিও এ দুটি টার্মিনালের বিপরীতে ভারতের মেঘালয়ে রয়েছে মাত্র একটি স্থলবন্দর।

প্রকৃতপক্ষে সারা দেশে আটটি স্থলবন্দরের তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো দেশের মানুষের তেমন উপকারে আসছে না। এসব বন্দরকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে জানিয়েছেন স্থলবন্দরের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

প্রভাবশালীদের তদবির বা চাপে সেগুলোকে বন্দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ওই আটটি স্থলবন্দরের মধ্যে ছয়টির কার্যকারিতা নেই।

কয়েকটির ভারতীয় অংশে কোনো স্থাপনাও নেই। অথচ এসব স্থলবন্দর নির্মাণে এ পর্যন্ত অন্তত সাড়ে চারশ কোটি টাকা খরচ করেছে সরকার।

প্রায় ৮৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল বিশাল অবকাঠামো। স্থলবন্দর হিসাবে ব্যবহার না থাকায় এসব অবকাঠামো এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওই আটটি স্থলবন্দরের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সাতটিই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি। অপ্রয়োজনীয় স্থলবন্দরের বিষয়ে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, অনেক স্থলবন্দর জনগণের উপকারে আসছে না, অথচ সেখানে বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।

Manual8 Ad Code

ওইসব বন্দর এখন দেশের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেসব বন্দর মানুষের কাজে লাগছে না, সেগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code