

ডেস্ক রিপোর্ট:
আড়াই মাস আগে ভারতে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। শুরুতে খুব একটা সাফল্য আসেনি। কিন্তু ওয়ার্ড অব মাউথ তথা দর্শকের প্রশংসার জোরেই ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। দর্শক সমাগমের সঙ্গে বাড়ে ছবিটির আয়ও। এই ফাঁকে ‘অ্যানিমেল’, ‘সালার’ ও ‘ডাঙ্কি’র মতো তুমুল আলোচিত সিনেমা এসেছে প্রেক্ষাগৃহে। কিন্তু চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এখনও ভারতের প্রেক্ষাগৃহে চলছে ছবিটি।
সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির নাম ‘টুয়েলভথ ফেইল’। বলিউডের নন্দিত নির্মাতা ও প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া বানিয়েছেন এটি। মাত্র ২০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ছবিটির বক্স অফিস কালেকশন ছাড়িয়েছে ৭০ কোটি রুপি। আর দর্শকের অসামান্য মুগ্ধতা তো রয়েছেই।
এদিকে সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। এরপর থেকে বাংলাদেশি দর্শকের নাগালে চলে এসেছে ‘টুয়েলভথ ফেইল’। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি নিয়ে রীতিমতো আলোচনার ঝড় বইছে। এর বিভিন্ন মুহূর্ত, সংলাপ ভাইরাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেসবুকের দেয়ালে দেয়ালে। অনেকেই বলছেন, ২০২৩ সালের সেরা হিন্দি সিনেমা এটি। ইন্টারন্যাশনাল মুভি ডাটাবেজে (আইএমডিবি) ছবিটির রেটিং ১০–এর মধ্যে ৯.২!
যেই সিনেমা নিয়ে এত এত প্রশংসা, আলোচনা, তাতে আসলে কী আছে? চলুন তবে সংক্ষেপে এর ভেতরে প্রবেশ করা যাক…
গল্পটা মনোজ কুমার শর্মা নামের এক যুবকের। যে দারিদ্র্যের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে ভারতের প্রথম সারির সরকারি কর্মকর্তা আইপিএস অফিসার হয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের এলাকা চাম্বালে জন্ম মনোজের। যেখানে অনিয়ম আর দুর্নীতিই শেষ কথা। এমনকি স্কুলগুলোতে পর্যন্ত প্রকাশ্যে চলে অনিয়ম। পরীক্ষার হলে শিক্ষক নিজেই বোর্ডে উত্তর লিখে শিক্ষার্থীদের পাস করান। এরকম এক অঞ্চলে প্রচণ্ড সততা নিয়ে বাঁচে মনোজের বাবা। আর সে কারণে সামান্য ক্লার্কের চাকরিও হারায়।
সংসারের ঘানি টানতে বড় ভাইয়ের সঙ্গে জুগাড়ে (যাত্রী পরিবহণের স্থানীয় এক বাহন) যোগ দেয় মনোজ। কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় অনিয়ম। ঘটনাক্রমে এক সৎ পুলিশ অফিসারের দেখা পায় মনোজ। যাকে দেখে সৎ উপায়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে থেকে তো সেটা সম্ভব নয়। তাই অদম্য জেদ নিয়ে ছুটে যায় শহরে। যেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছে অকল্পনীয় সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম পেরিয়ে কীভাবে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ হয়, তা–ই উঠে এসেছে ‘টুয়েলভথ ফেইল’-এ।