

বিশেষ প্রতিবেদন: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময় বাকি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনি পরিবেশের দেখা মিলছে না এখনও। তবে পশ্চিমা কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা সক্রিয় হয়েছেন সম্প্রতি। তাদের দিয়েই বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে ‘কিছু ছাড়’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যানেলে সেই বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপি বেশ কিছু দিন ধরে পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে ও গোপন বৈঠকে কিছু বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কূটনীতিকদের বৈঠকেও সেই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তবে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তাদের (কূটনীতিক) মাধ্যমে প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, নির্বাচনি রাজনীতি বা প্রচারে বাধা না দেওয়া, নেতাকর্মীদের নামে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করা, নতুন করে মামলা দায়ের বা গ্রেফতার না করা, সংলাপে বসে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানে আসা। এসব বিষয়ে সরকারের ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
ক্ষমতাসীন দলের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদেশিদের এবারের সক্রিয়তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। সেজন্য কূটনৈতিক চ্যানেলের বাইরে রাজনৈতিক চ্যানেলেও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে পারেন আওয়ামী লীগের হাফ ডজন নেতা।
সূত্রমতে, উভয় চ্যানেলেই নির্বাচন নিয়ে কিংবা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির সংলাপ আহ্বানের ব্যাপারে বিএনপির মনোভাব বা কৌশল জানার চেষ্টা করছে সরকার ও সরকারি দল। এতে ইতিবাচক সাড়া মিললে আনুষ্ঠানিক আলোচনার দরজা খুলতে পারে। তার আগে চাপ তৈরি করতে বিএনপির কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং ইইউভুক্ত সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের একটি বৈঠক হয়। এতে জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, সুইডেনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ ও কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত।