

গুমের দায় এবং গুম হওয়া পরিবারের অসহায়ত্বের দায়ও সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে, এই গুম পরিবেশ থেকে মুক্তি চাই। গুমের যে কালচার শুরু হয়েছে সেই কালচারকে বন্ধ করতে হবে। সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
সোমবার আন্তর্জাতিক গুম বিরোধী দিবসে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি মানবাধিকার সেলের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গুমের শিকার এই পরিবারগুলোর অসহায়াত্বের দায় কে নেবে? অনেককে ৯ বছর, ১০ বছর ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিএনপির সাবেক এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী, ঢাকার কমিশনার চৌধুরী আলমসহ ৫০০ এর অধিক নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। ইলিয়াস আলীর মেয়ে এখন বড় হয়েছে। এখনও সে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে যে, কখন তার বাবা ফিরে আসবে। কিন্তু তার বাবা আর ফিরে আসে না। আজ বাচ্চাদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ কাঁদছে। আমরা নিজেরাও সহ্য করতে পারছি না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বলে যে, এখন গুম হয় না। তাহলে এতগুলো মানুষ গেলো কোথায়? তাদেরকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব তো আপনাদের। তাদের পরিবারের কাছে তাদেরকে ফেরত দিন। এটা অবশ্যই আপনাদেরকে দিতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় আপনাদেরকে দাঁড়াতে হবে। তার জবাব দিতে হবে। একদিন জনগণের আদালতে আপনাদের বিচার করা হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এমন দেশ, এমন রাষ্ট্র আমরা বানালাম যেখানে আমার সন্তানরা নিখোঁজ হয়ে যাবে, তাদের হদিস কেউ খুঁজে পাবে না এবং সেটা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর লোকেরা তাদেরকে তুলে নিয়ে যাবে সরকার তার কোনো জবাব দেবে না। আমরা তো আমাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। অসহায়ত্বের বেদনার যন্ত্রণা আমাদের কুরে কুরে খায়। গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, আমরা আর কিছু না করতে পারি, আমরা শুধু তোমাদের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে চাই যে, আমার ভাইকে, আমার বাবাকে, আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দাও। সরকারকে আমরা বার বাঙ্গ্বোন জানাই- গুম হওয়া মানুষদের ফেরত দিন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই আওয়ামী লীগের সরকার আজকে শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বেআইনিভাবে অবৈধভাবে গোটা জাতিকে ধবংস করে দিচ্ছে। আমাদের সংবিধানকে ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো ধবংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অর্থনীতিকে ধবংস করেছে, গোটা প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। সেজন্য আমাদের উচিত হবে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করে একটা সত্যিকার অর্থেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
মারবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, গুম হওয়া আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রাইসা, মো. সোহেলের মেয়ে সাবা, মো. কাউসারের মেয়ে মীম, সেলিম রেজার বোন রেহানা আখতার মুন্নী, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম আখি ও খালেদ হোসেনের মেয়ে শাম্মী আখতার নিপা বক্তব্য রাখেন।