গৌরীপুরে উদ্বোধনের আগেই ৩২ লাখ টাকার সেতু পরিত্যাক্ত ঘোষণা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) :
উদ্বোধনের আগেই ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার নয়াখালের উপর নির্মিত একটি পাকা সেতুর স্প্যান ফেটে দুই ভাগ হয়ে গেছে। ফেটে যাওয়া স্প্যানের দুই অংশ একে অপরের বিপরীত দিকে চলে গেছে। স্প্যানের ঢালাই খসে পড়ে রড বের হয়ে পড়ায় ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে সেতুটি। পানির স্রোতে যেকোন মূহুূর্তে ধসে পড়তে পারে সেতুটি। ফলে উদ্বোধনের আগেই ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ খালের ওপর যেখানে সেতু নির্মাণ হয়েছে সেখানে খালের দৈর্ঘ্যের চেয়ে সেতুর কম ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির অভাব ও নির্মাণ কাজে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার হওয়ায় নির্মাণের পরপরই সেতুর স্প্যানে ফেটে দুই ভাগ হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের বায়রাউড়া ও কোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার জন্য দুই গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহমান নয়াখালের উপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ব্রীজ নির্মাণের প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। কোনাপাড়া থেকে বায়রাউড়াগামী রাস্তার আনোয়ার পুলিশের বাড়ির উত্তর পাশে নয়া খালের ওপর সেতুটির অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে খালের ওপর ৩৬ ফুট দৈঘ্য পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৬ টাকা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্মাণ কাজ তদারকি করা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শহীদ এন্টারপ্রাইজ গত জুন মাসে সেতুর নির্মাণ শুরুর পর আগস্ট মাসে কাজ সম্পন্ন করে। এর মধ্যেই সেতুটির মূল স্প্যান ছাড়াও পাশের দেয়ালের মাটি সরে গিয়ে উয়িং ভেঙ্গে গেছে। সেতুটি নির্মাণের সময় কতৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের সামগ্রী। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মর্জিমতো সেতুর পাইলিং ৮০ ফুটের পরিবর্তে ৩৫-৪০ ফুট গভীরে পাইলিং করে ব্যাজ নির্মাণকরা, ঢালাইয়ের কাজে কাদা মেশানো বালু, নিম্নমানের পাথর ও মরা পাথর এবং সিঙ্গেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পরিমাণমত সিমেন্ট না দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করায় ব্যবহারের আগেই ভেঙ্গে গিয়েং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করলে তা দৃশ্যমান হয়। তখন অনেকেই কাজে বাধা দিলেও ঠিকাদার কর্ণপাত না করেই তড়িঘড়ি কাজ সম্পন্ন করেন।
সরজিমন খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটির স্প্যান ফেটে দুই ভাগ হয়ে রড বেরিয়ে এসেছে। মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে সেতুর এপ্রোচ পিলার। খালের দক্ষিন পাড়ে সেতুর অংশ দেবে গেছে। উয়িং ডেবে গিয়ে সেতু মূল স্পেনের রড বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কিংবা সর্তকর্তা বানী না থাকায় দুই পাড়ের মানুষ হেঁটে সেতু পার হচ্ছে। ফলে যেকোন মূহুর্তে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহেল রানা বলেন, পানির স্রোতে সেতু ফাটল ধরায় সেতুটি বাতিল করা হয়েছে। এখানে ৫৫ থকে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি গাডার ব্রীজ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভূর্তুকি দিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া সেতুটি স্থান পরিবর্তন করে নতুন করে নির্মাণ করে দিবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন বলেন, সেতু বাতিলের বিষয়টি শোনেছি। সেতু নির্মাণ কাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code