

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে নকল বীজের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। করোনাকালীন নকল বীজের ছড়াছড়িতে অর্থনৈতিকভাবে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট নকল বীজ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আজ সোমবার দুপুরে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আব্দুল খালেক নামে এক ক্ষুদ্র কৃষক ক্ষতিপূরণের দাবিতে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, ফুলপুর পৌরসভার দিউ মধ্যপাড়া গ্রামের চা ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র কৃষক মো. আব্দুল খালেক আমুয়াকান্দা বাজারের পয়ারী রোডস্থ ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর মো. হারুন-অর রশিদের নিকট থেকে ইস্পাহানি কোম্পানীর বি আর ২৬ ধানের ৬ কেজি উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধানের বীজ ক্রয় করেন। পরে স্থানীয় শহীদ হাজীর নিকট থেকে কাঁকড়ার চর এলাকায় খরিয়া নদীর ১ একরের একটি জমি বোরো রোপনের জন্যে ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে ৩০ হাজার টাকায় কচুরিপানা সরিয়ে ও কাজের লোক খাটিয়ে ওই বীজ রোপন করেন। কিন্তু নকল বীজ হওয়ায় সব ধান চিটা হয়ে যায়। ক্ষুদ্র কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, আমি মূলত: একজন চা দোকানদার। আমার নিজের জমিজমা নেই। চা বিক্রি করে কিছু টাকা জমিয়ে এই ক্ষেতটা টঙ্ক নিয়া করছিলাম। অহন করোনা ভাইরাসের কারণে দোকান ও আয় ইনকাম বন্ধ। বড় আশা নিয়া ধান ক্ষেতটার দিকে চাইয়া আছলাম। কিন্তু বীজ ব্যবসায়ী হারুন নকল বীজ দিয়া আমার ধান ক্ষেতটাও মাইর দিয়া দিল। সব ধান ছুচা অইয়া গেছে। অহন আমার কি অইবো? হারুনের নিকট থেকে কৃষক আবুল কালাম এবং আরেক চা ব্যবসায়ী সিরাজও বীজ নিয়েছিল। তাদের ক্ষেতেরও একই অবস্থা। এছাড়া একই বাজারের বীজ ব্যবসায়ী মোশারফের নিকট থেকে নড়াইলের আবুল কালাম, সুরুজ আলী ও মোহাম্মদ আলী পাট বীজ নিয়েছিলেন। তাদের বীজও নকল হওয়ায় কোন চারা গজায়নি। নকল বীজের কারণে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, এ ব্যাপারে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা এর ক্ষতিপূরণ চাই। উপজেলার পয়ারী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ক্ষেতটি সরেজমিন পরিদর্শন করে বলেন, এটি বোরো সীজনে রোপনের জন্য বি আর ২৬ বা ২৮ ধান নয় বরং এটি আমন সীজনে রোপনের বিনা ৭-এর মত এক ধরনের ধান। এরফলেই সমস্যাটা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র কৃষক আব্দুল খালেকের নিকট থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।