চমকের নাম “শফিউল আলম নাদেল”

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual1 Ad Code

বৃহস্পতিবার। রাত তখন প্রায় সাড়ে ৯টা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শফিউল আলম নাদেল মাত্র একটি শব্দে পোস্ট দিলেন। সেই শব্দটি ছিল ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

Manual4 Ad Code

নাদেলের এই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়ায় শুকরিয়া জ্ঞাপন করা। দৃশ্যমান কোনো আলোচনায় না থাকা স্বত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া নাদেল যেন রীতিমতো চমকে দিয়েছেন সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনকে। সিলেটজুড়ে এখন তাই একটাই আলোচনা, নাদেল!

শফিউল আলম নাদেল সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গেল ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে জোর তৎপরতা চালান নাদেল। কিন্তু তাকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

Manual4 Ad Code

তখন সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেইবা জানতো, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের চেয়েও গুরুত্বপূূর্ণ দায়িত্বভার আসছে নাদেলের কাঁধে!

বাস্তবে ঘটলো ঠিক তা-ই। যে নাদেল সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে প্রচেষ্টা চালালেন, সেই তিনি এক লাফে পেয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ। সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন তাই বিষয়টিকে ‘চমক’ হিসেবেই মূল্যায়ন করছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এবার সিলেট থেকে এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আলোচনায় ছিলেন। কিঞ্চিত আলোচনা ছিল প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ ডনকে ঘিরে। কিন্তু টানা তিন মেয়াদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবার কেন্দ্রে কোনো পদই পাননি। আগের কমিটির নির্বাহী সদস্য কামরান এবারও একই পদে আছেন। আর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ডনেরও জায়গা হয়নি এবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

Manual4 Ad Code

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শফিউল আলম নাদেলের নামে কোনো আলোচনা ছিল না। কিন্তু দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা আস্থা রেখেছেন তার ওপর।

জানা গেছে, শফিউল আলম নাদেল স্কুলজীবনেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হন। ১৯৮৬ সালে তিনি নিজের স্কুল সিলেট শহর স্কুল (বর্তমানে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়) ছাত্রলীগের সভাপতি হন। পরবর্তীতে সিলেট সরকারি কলেজ এবং এমসি কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন তিনি। পরে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য হন নাদেল।

Manual3 Ad Code

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শফিউল আলম নাদেল সিলেটভিউকে জানান, ১৯৮৭ সালে তিনি এমসি কলেজ ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। পরে ১৯৯৭ সালে হন সভাপতি।

ছাত্রলীগের রাজনীতির পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়ান নাদেল। ছাত্রলীগের জেলা শাখায় রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের মহানগর শাখায় যুক্ত হন তিনি। মহানগর আওয়ামী লীগে প্রথমে শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন নাদেল।

নাদেল জানান, ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক হন। এ দায়িত্ব পালন করেন গেল ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

জানা গেছে, শফিউল আলম নাদেল রাজনীতির বাইরে ক্রীড়াঙ্গনের সাথেও জড়িত। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক, ছিলেন সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন নাদেল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code