

সম্পাদকীয়: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ বা অন্য রোগের অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে এসে ফেরত যাচ্ছেন।
আবার চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরাও ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন না বলে স্বজনদের অভিযোগ। সব মিলে এক নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে হাসপাতালগুলোতে। শনিবার যুগান্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৪৯ জন রোগী।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে যেমন আইসোলেশনের প্রয়োজন হয়, তেমনি অবস্থা গুরুতর হলে দরকার হয় আইসিইউ সাপোর্ট। ফলে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে রাখতে হয় বাড়তি ব্যবস্থা।
বর্তমানে সারা দেশে ডেঙ্গুর এতটাই প্রকোপ যে, করোনা মহামারির সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, সে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করি আমরা। চিকিৎসার পাশাপাশি ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে যারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আসছেন, তাদের জন্যও নিতে হবে বাড়তি ব্যবস্থা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতা যাতে না হয়, সেদিকে নজর বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে করোনা মহামারির সময়ে যেভাবে হাসপাতালগুলো ডেডিকেটেড ওয়ার্ড বা কর্নার খুলেছিল, সে রকম ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা শহরে কমিউনিটিভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র এখন বেশি প্রয়োজন। লক্ষণীয়, এবার যে ডেঙ্গুর ধরন দেখা যাচ্ছে, তাতে আক্রান্তদের দ্রুত শারীরিক অবনতি হচ্ছে। ফলে জ্বর প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। এক্ষেত্রে প্রতিটি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক ফলোআপের জন্য পৃথকভাবে ডেঙ্গু অবজারভেশন রুম খোলা বাঞ্ছনীয়। সুস্থতা-পরবর্তী জটিলতায় পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিকও চালু করা দরকার। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যবিদরাও হাসপাতালের সেবাদান ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিচ্ছেন আগে থেকেই।