চিনা চাষে ঝুকছে গোদাগাড়ীর কৃষকরা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

সেলিম সানোয়ার পলাশ, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) ঃ
দিন দিন চিনা চাষে ঝুকছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকরা। চাষে খরচ কম, ফলন ভালো ও বাজারে দাম থাকায় বিলুপ্ত হওয়া এ চিনা চাষে কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
আগে চরাঞ্চলে চিনা চাষ হলেও এখন চরাঞ্চলের পাশাপাশি গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলেও হচ্ছে ব্যপক হারে চিনা চাষ। এছাড়াও
গোদাগাড়ী উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয় পদ্মা নদী শুকিয়ে বুকে চর জেগে থাকায় চরেও হচ্ছে চিনার চাষ। প্রতিবছর শীতকালে এ নদীর কয়েক হাজার হেক্টর চর জেগে উঠে। আর জেগে উঠা চরে নদী পাড়ে কৃষকেরা চাষাবাদ করে থাকেন। তার মধ্যে অন্যতম চিনা চাষ।
চিনা চাষ করতে কোন মৌসুম লাগে না।এমনকি কোন খরচ নাই বললেই চলে। বিনা খরচে এ চিনা চাষ হয় বলে লাভও ভাল হয় কৃষকদের। বাজারে এর আতব ধানের মত চাহিদা বেশী। চলতি বছরেও চিনা বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষকেরা আশা করছেন। ফলে কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।
চলতি বছর চিনা চাষ জেলার মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলার মধ্যে বেশি হয়েছে। তার মধ্যে ৬ নংমাটিকাটা ইউনিয়ন ও ৯ নং চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নে চিনা বেশী চাষ হয়েছে। চরাঞ্চলে অন্য ফসলের তুলনায় চিনা ভাল জন্মে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৯০ হেক্টোর জমিতে চিনা চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে চিনা চাষ হয়ে ছিল প্রায় ৬০ হেক্টোর জমিতে।
বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই চিনা না চিনলেও এক সময় চরাঞ্চলে এর ব্যাপক আবাদ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় চিনার কোনো আবাদ না হওয়ায় এটি এখন মানুষের মাঝে প্রায় অচেনা। অথচ এই চিনা ধানটি হয়ে উঠতে পারে এ এলাকার অর্থনৈতিক আরেকটি ফসল।
কৃষক ফেন্সুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, চিনা চাষ করতে তেমন খরচ বেশি হয়না। শুধু মাত্র বীজ বোপন করলেই চিনার গাছ বেড়ে উঠে। মাঝে একবার সামান্য সার প্রয়োগ করতে হয়। কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন পড়েনা।
তিনি আরো বলেন, বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাই। বাজারে এর দামও ভাল। গত মৌসুমে মণ প্রতি তিন থেকে চার তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য মণ প্রতি দুই হজিরি থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, চিনা খরা মৌসুমের ফসল, গভীর থেকে রস ধারন করে, একবার সেচ দিলেই চলে। বপনের ৬০ দিনের মধ্যে জমি থেকে চিনা পাওয়া যায়। চিনা চাষ করতে তেমন খরচ হয়না। একবার সার দিলেই চলে। রোগ বালাই কম হওয়ায় কোন কটিনাশক ব্যাবহারের প্রয়োজন হয় না। অল্প খরচ ও অল্প পরিশ্রম করেই এ ফসল ফলানো সম্ভব। বাজারে চিনার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভোবান হচ্ছে। অর্থকারী ফসল হিসাবে চিনা চাষের খুবই উজ্জ্বল সম্ভবনা দেখা দিয়েছে এ উপজেলায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code