চীনা বিআরআই প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (রোড বিআরআই)’র আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেল, সড়ক, সেতু, বন্দরসহ নানা ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে মোটা অংকে অর্থায়ন করেছে চীন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে চীনের ঋণের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে দেশগুলো, যা থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন।

২০১৩ সালে চীন সর্বপ্রথম পৃথিবীব্যাপী এ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ পরিকল্পনা প্রকাশ করে ।সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্র, সবচেয়ে বড় অর্থায়ন ও সবচেয়ে বেশি জনসমষ্টি। বলা হচ্ছে, এটিই হতে যাচ্ছে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রকল্প।

Manual4 Ad Code

৬৮টি দেশ, ৬০ শতাংশ বিশ্ব জনসংখ্যা এবং ৪০ শতাংশ উৎপাদন নিয়ে এই নয়া রেশমপথ রচনা করছে এশীয় আদলের নতুন বিশ্বায়ন। চীনের দাবি, এটা সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথভাবে লাভবান হওয়ার নতুন এক মডেল।

Manual1 Ad Code

২০১৩ সাল থেকে মুডি’স অনুমান অনুযায়ী চীন বিআরআই প্রকল্প এবং নির্মাণ চুক্তিতে ৬১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে যা ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী চীনের সমস্ত লেনদেনের ৫৩ শতাংশ এবং চুক্তিগুলির ৬১ শতাংশ। করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর, চীনের বি আর আই বিনিয়োগ ২০ সালে  ৫৪ শতাংশ কমে ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ডাকারফ্রন্টিয়ারের চীন বিশ্লেষক বোইয়াং জুয়ে বলেন, চীনে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে আছে। আর যেগুলো খোলা হয়েছে, সেগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারেনি। যেহেতু বিআরআই প্রকল্পগুলোর বহু সরঞ্জাম ও মেশিনারির প্রধান উৎস চীনভিত্তিক ম্যানুফ্যাকচারারসরা, তাই দেশটির শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত প্রকল্পগুলোর আরো বিলম্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

বিআরআইয়ের একটি বৃহদায়তন প্রকল্প, ইন্দোনেশিয়ায় চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের ৬০০ কোটি ডলারের হাই-স্পিড রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছে। নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগটি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নির্বাহী জানান, কোম্পানিটি ১০০ জনের বেশি চীনা কর্মকর্তাকে, যাদের অধিকাংশই দক্ষ শ্রমিক বা ব্যবস্থাপক জাকার্তার টেক্সটাইল কেন্দ্র বান্দুংয়ের প্রকল্পটিতে ফিরে আসতে বাধা দিয়েছে।

Manual6 Ad Code

চায়না ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন এজেন্সির তথ্য অনুসারে, নভেল করোনাভাইরাস বিস্তারের জেরে বিশ্বের ১৩৩টির বেশি দেশ চীনা নাগরিক বা চীনে ভ্রমণে যাওয়া ব্যক্তিদের দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তবে ভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব না পড়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানে চলমান ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি)। যদিও কর্মকর্তারা জানান, চীন থেকে ফেরার পর বেশকিছু ব্যবস্থাপককে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।

২০১৮ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড নিয়ে সমালোচনার পর উদ্যোগটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে নভেল করোনাভাইরাস। সে সময় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকাসহ বেশকিছু দেশের সরকারি কর্মকর্তারা ব্যয়বহুল ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর সমালোচনা করেছিলেন।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code