চীনের সামরিক-শিল্প নতুন রূপ দিচ্ছে ভূ-রাজনীতিকে

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বব্যাপী সামরিক-শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি ভূ-রাজনীতির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। চীনের মতো, প্রায় প্রতিটি মহাদেশে দেশগুলি তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি করছে। গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা ব্যয় ২৪লাখ ৬হাজার কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পরাশক্তিগুলি বিশ্ব অর্থনীতিকে রূপ দিতে এবং অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য দ্রুত উদীয়মান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিগুলিকে ব্যবহার করছে। চীনের সামরিক-শিল্প খাত এর বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উচ্চাকাক্সক্ষার সাথে গভীরভাবে জড়িত, যা ১৯৮০-এর দশকে উদ্ভূত ব্যাপক জাতীয় শক্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট, ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। এই কৌশলটি দেশটির সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

Manual2 Ad Code

চীন সামরিক-বেসামরিক সংমিশ্রণের একটি কর্মসূচি অনুসরণ করছে, যা বেসামরিক শিল্পগুলিকে সামরিক উদ্দেশ্যের সাথে একীভূত করছে, যাতে দ্বৈত-ব্যবহার উপযোগিতা সম্পন্ন প্রযুক্তিগুলির মাধ্যমে বেসামরিক খাতের উদ্ভাবন এবং ক্ষমতা কাজে লাগানো যায়। বেইজিং সামরিক-স্থানীয় সহযোগিতার উপরও জোর দিচ্ছে, যেখানে স্থানীয় সরকারগুলি সামরিক উন্নয়নকে সমর্থন করার জন্য সম্পদ বরাদ্দ করছে। চীনের ড্রোন প্রযুক্তি, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এআই-চালিত নজরদারি এবং বেইদৌ-এর মতো উপগ্রহ দিক নির্দেশনা ব্যবস্থাগুলি সম্ভবত এই পদক্ষেপ থেকে উপকৃত হয়েছে। এই ধরণের প্রযুক্তি দক্ষিণ চীন সাগরে দেশটির নৌ উপস্থিতি, সাইবার জগৎ এবং মহাকাশে শক্তি প্রদর্শনের ক্ষমতা এবং পারমাণবিক ক্ষমতার আধুনিকীকরণে ভূমিকা পালন করছে।

Manual1 Ad Code

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (ঈঝওঝ) অনুসারে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের গতির চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ দ্রুত গতিতে এর অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। নয়টি পারমাণবিক শক্তি সজ্জিত দেশের মধ্যে চীনের কাছে দ্রুততম বর্ধনশীল পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে বলে মনে করা হয়। দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাতাও। মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমান, চীনের জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ২শ’ ৩০গুণ বেশি। সিএসআইএস-এর একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, এই খাতে চীনের প্রাধান্য, যা একই সাথে চীনের শক্তি প্রদর্শনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, পশ্চিমাদের সামরিক আধিপত্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সমন্বয় এবং চীনের সামরিক-শিল্প উত্থানের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং জোটগুলি তাদের বৈদেশিক নীতি পুনর্বিন্যাস করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত চালু করেছেন, যা জাতীয় নিরাপত্তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া শিল্পগুলিকে শক্তিশালী করছে। তিনি মনে করেন, শুল্ক কেবল বাণিজ্য বৈষম্যকেই মোকাবেলা করে না বরং মার্কিন শক্তি প্রয়োগেও সহায়ক। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত নিরাপত্তা জোট একটি শিথিল সংগঠন থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার জন্য আরও সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে বিকশিত হয়েছে। অকাস চুক্তির অধীনে, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রযুক্তি ভাগাভাগি করতে যাচ্ছে। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।

Manual4 Ad Code

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধকৃত ন্যাটো ২০২২ সালে, নিরাপত্তা জোটটি তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চীনকে একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে পূর্ব দিকে লক্ষ্য স্থির করেছে। ২০১৮ সালে চীন নিজেকে আর্কটিকের কাছাকাছি একটি রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করাতে এবং পোলার সিল্ক রোডের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করাতে, এর প্রতিক্রিয়ায় পূর্বদিকের আর্কটিক অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ফিনল্যান্ডের মতো ন্যাটো সদস্যদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত।
চীনের সামরিক-শিল্প একটি বিশ্বব্যাপী শক্তি, যা জোটগুলি পুনর্গঠন করছে, প্রভাবের ক্ষেত্র নির্ধারণ করছে এবং বাণিজ্য প্রবাহ পরিচালনা করছে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং দেশগুলির সাথে চীনের জড়িত থাকার পদ্ধতি পরিবর্তন করছে। এর মিত্র এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরাও প্রতিক্রিয়ায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্নির্মাণ করছে।

Manual4 Ad Code

Desk: K

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code