চীন সাগরে দ্বিপাক্ষিক সংঘাত বনাম তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের কাছে সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ তাইওয়ান। চীন দ্বীপটির উপকূলে সেনা সমাবেশ ও সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিক সংস্হা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে।

Manual2 Ad Code

তাইওয়ান দক্ষিণ চীন সাগরের একটি দ্বীপ যারা বিশ্বের ২০তম অর্থনীতির দেশ হিসাবে স্বীকৃত এবং তাদের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত চীনের সংঘাতপূর্ণ অধ্যায়| চীনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাইওয়ান তাদের অংশ। এটি ভবিষ্যতে কোনো একদিন চীনের সঙ্গে একিভূত হবে। আর তাইওয়ান নিজেকে কীভাবে দেখে? সেটার উত্তর অবশ্য এতটা সরল নয়। তাইওয়ান রাজনৈতিকভাবে চীনের অংশ নয়, কিন্তু আবার চীন থেকে আলাদাও নয়|

বহু বছর ধরে চীন ও তাইওয়ানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র একটি অস্পষ্ট ও রহস্যময় নীতি অবলম্বন করে আসছে। এ নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা দেয়। কিন্তু, মার্কিন কর্তৃপক্ষ কখনো প্রকাশ্যে বলেনি যে চীনা আক্রমণের সময় তারা তাইওয়ানের সহায়তায় এগিয়ে আসবে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে বিশ্বের দুই বড় শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক ও সংঘাত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক গুরুত্ব বহন করে।

চার দশক আগে ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই পক্ষই তাইওয়ান নিয়ে পারস্পরিক বিরোধে না জড়াতে কূটনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে সেটা তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে হয়নি, হয়েছে দেশটির বাণিজ্যিক কূটকৌশল এবং সংখ্যালঘু জনগণের ওপর দমনপীড়নের কারণে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীনের কাছে সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ তাইওয়ান। চীন দ্বীপটির উপকূলে সেনা সমাবেশ ও সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিক সংস্হা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। চীনের এ রকম শক্তি প্রদর্শনে তাইওয়ানের বড় ভরসা যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক কৌশল বিষয়টিকে আরো ঘোলাটে করছে।

Manual8 Ad Code

একদিকে তাদের আনুষ্ঠানিক নীতি হচ্ছে, তাইওয়ানে যদি কোনো অবস্হানগত পরিবর্তন ঘটে, সেটা হতে হবে সম্মতিপূর্বক। আবার তারা এটাও বারবার করে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন দেবে না। ছোট্ট একটি দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য এ রকম মহাশক্তিধর চীনকে মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা বাস্তবসম্মত তা একটি চিন্তার বিষয়ও বটে।

Manual7 Ad Code

বর্তমানে তাইওয়ান যদি নিজ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে অথবা যুক্তরাষ্ট্র যদি তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়, তবে চীনের জন্য যুদ্ধ শুরু করা অত্যাবশ্যক বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কেমন হওয়া উচিত সেটা নিয়ে সব মহলেই কৌতূহল।

বিশ্বের অনেক দেশের মধ্যেই আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক মতবিরোধ আছে। অনেক মতবিরোধ শত বছর ধরেও চলে আসছে। তাইওয়ানের পরিস্হিতিও বিশ্বমোড়লদের রাজনৈতিক মতবিরোধের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই পরিস্হিতিকে জিইয়ে না রেখে সমাধানযোগ্য বিষয় হিসেবে পর্যালোচনা করা উচিত। সেখানকার পরিস্হিতি যদি কোনোভাবে সংঘাতের দিকে গড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, চীনতো বটেই; অত্র অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং বাকি বিশ্বের জন্যও তা ভয়াবহ হবে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code