নিউজ ডেস্কঃ দেশ গঠনে তরুণদের নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করা বিভিন্ন কার্যক্রমকে সম্মান জানিয়ে বিজয়ের ৫০ বছরে বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবারও ফিরে এলো জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে তারুণ্যের বৃহত্তম প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলার এই আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে যেখানে ১৫ সংগঠনের হাতে উঠবে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’।
তরুণদের প্রায় ৭০০টির অধিক সংগঠন আবেদন করে স্বাধীনতা ও বিজয়ের ৫০তম বছরে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য। বিশেষ বিচারকদের প্যানেল থেকে এই আবেদনগুলো যাচাই বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বেছে নেয়া হয় ৩১টি সংগঠনকে। অ্যাওয়ার্ডের ক্যাটাগরি অনুসারে বাছাইকৃত সেই সংগঠনগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
১. শাহানা আফরিন দিনা – স্টেপ এহেড: ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ”স্টেপ এহেড” কর্মসূচির মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক কিশোরী-তরুণী ও নারীদের নিয়ে কাজ করা হয়। এর আওতায় নারী স্বাস্থ্য, হাইজিন কিট বিতরণ কর্মসূচি ও নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি হস্তশিল্প তৈরি, সেলাই, গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের প্রশিক্ষণ ও শীতলপাটি তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেয়। এ ছাড়া হোম-ফ্যাক্টরি নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরে বসেই পরিবেশ বান্ধব পণ্য তৈরি ও বিপণনের পথ দেখিয়ে নারীদের আয় করার সুযোগ করে দেয় তারা।
২. আশিকুজ্জামান – উপকূলীয় উন্নয়নের উদ্যোগ/ইনিশিয়েটিভ অব কোস্টাল ডেভলোপমেন্ট (আইসিডি): খুলনার কয়রা উপজেলার উপকূলীয় সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ করে ‘বাঘ বিধবা’ (বাঘের আক্রমণে বিধবা) আদিবাসী সম্প্রদায়ের (মুন্ডা) জন্য ২০১৮ সালে আইসিডি নামে একটি সংগঠন কাজ শুরু করে। এর মাধ্যমে মুন্ডা পরিবারের মাঝে নৌকা ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বহুবার এসব পরিবারের মধ্যে ত্রাণ, খাবার, স্যানিটেশন উপাদান ইত্যাদি বিতরণ করেছে।
৩. আবদুল্লাহ আল আরাফ- আইডিইবি আইওটি ও রোবটিক্স রিসার্চ ল্যাব: ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আইডিইবি আইওটি ও রোবটিক্স রিসার্চ ল্যাব গবেষণা করে তরুণদের স্বপ্নের প্রকল্পের বিকাশ করার সুযোগ করে দেয়। তারা বর্তমানে প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি, পুনঃব্যবহারযোগ্য শক্তি, রোবটিক্স ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বাঁধা দূরীকরণে কাজ করছে।
৪. সুমন সাহা – বাংলাদেশ সায়েন্স সোসাইটি: ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সায়েন্স সোসাইটির লক্ষ্য বাংলাদেশের উদীয়মান প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া। ধর্মীয় কুসংস্কার ও সমাজের অনগ্রসরতা দূর করতে তৃণমূল পর্যায় থেকে শীর্ষ পর্যন্ত কাজ করছে। এর মূল লক্ষ্য দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চ অধ্যয়ন, প্রযুক্তিগত গবেষণা। এর মাধ্যমে তারা এরইমধ্যে প্রায় ২ লাখ যুবককে সহায়তা করেছে। এটি ফেসবুক ও প্রেকেল্ট ফাউন্ডেশন থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে।
৫. মোহাম্মদ শামস জাব্বার – টেক একাডেমি: ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত টেক একাডেমীর লক্ষ্য হল গেমিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষামূলক তথ্য ছড়িয়ে দেয়া। ‘৪র্থ শিল্প বিপ্লব’-এর নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে ৮ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের লালন-পালন করা, অ্যানিমেশন, কোডিং, গেম ডেভেলপমেন্ট এবং রোবটিক্সের মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দক্ষতা শিখিয়ে থাকে। এরইমধ্যে ১০০০ হাজারের মতো তরুণ এর সুবিধা পেয়েছে। টেক একাডেমি জাকার্তা এবং সান ফ্রান্সিসকোতে তারা কাজ করছে। একাডেমিটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে
৬. সানজিদুল আলম সেবন শান – ইকোভেশন বাংলাদেশ: ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইকোভেশন বাংলাদেশ একটি গবেষণা ও উদ্ভাবন-ভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগ। স্বেচ্ছাসেবী এই পদ্ধতির মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উপকার পেয়েছে। এটি রোহিঙ্গা শরণার্থী সহ প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে আলোর সুবিধা, সৌর বাতি ও রাস্তার আলোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। করে দিয়েছে। এছাড়া ৩০০০ সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি প্রশিক্ষণ নিয়ে সোলার ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন। ইকোভেশন বাংলাদেশের বিনামূল্যে ২০টির বেশি সৌর-চালিত পানি শোধনাগার থেকে ৫০ হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে। এছাড়া পুনঃব্যবহারযোগ্য প্যাড তৈরিতে শতাধিক নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
৭. ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব – রিফ্লেক্টিভ টিনস: ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশ লাভ করে রিফ্লেক্টিভ টিনস। উদীয়মান তরুণদের সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ বিকাশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান। বিগত ৮ বছরে এক লাখের বেশি সৃজনশীল কিশোর-কিশোরীকে প্রভাবিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাজ্য, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং ভুটানসহ বেশ কিছু দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে উদীয়মান তরুণদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তারা।
৮. শাহরিয়ার হোসেন বাবলা – চকবোর্ড কমিউনিকেশন: জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৪, ৫ ও ৬ নম্বর বাস্তবায়নে সামাজিক উন্নয়ন ও তারুণ্যের ক্ষমতায়ন বিষয়ক কার্যক্রমের প্রচারণায় ২০১৯ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে চকবোর্ড। তাদের সবচাইতে বড় সুবিধাভোগী শ্রেণী স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। তাদের একটি প্রকল্পের নাম ‘সাইবার রেসকিউয়ার’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সম্পর্কে শেখানো হয়। উগ্রতা, অন্যকে কটাক্ষ করা বা অনলাইনে কাউকে আঘাত করে কিছু না বলার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সংগঠনটি।
৯. রাতুল দেব – জেন ল্যাব: তিনটি বিষয়কে সামনে নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে জেনল্যাব। মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সমাজের বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনটি এখন পর্যন্ত ৩ লাখ মানুষের কাছ ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক শান্তির কথা প্রচার করে যাচ্ছে তাদের পরামর্শ কার্যক্রমের মাধ্যমে। এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘পিস ক্যারাভান’ এই সংগঠনের নতুন কার্যক্রম। এই উদ্যোগের আওতায় তরুণ ও পেশাজীবীদের কেন্দ্র করে শিল্প চর্চা ও ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে সমাজে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়।
১০. সুব্রত চাকমা – উজানি যুব শিল্পগোষ্ঠী: উজনি যুব শিল্পীগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল কেন্দ্রিক একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন যা ২০১৭ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মূলত এই অঞ্চলের যুব সমাজের মাঝে সংস্কৃতি চর্চা এবং মূল ধারার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি চর্চায় তরুণদের উৎসাহী করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে তারা। সংগঠনটির ২০০ শিক্ষার্থী সদস্য হিসেবে রয়েছে যারা বর্তমানে দেশের বেশ কিছু জাতীয় পর্যায়ের প্লাটফর্মে কাজ করছে।
১১. মো. ইমরান হোসেন – মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন: ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ক্লাব ‘মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন’। সিলেট এমসি কলেজে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে এই সংগঠনটি। বিভিন্ন সময় দেশাত্মবোধক গান, লোকসংগীত, আধুনিক গান, নাটক, নাচ ও আবৃত্তি কার্যক্রমের আয়োজন করে সংগঠনটি। সিলেটের বৃহত্তম এই কলেজকে ভিত্তি করে পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন সহ জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করে এই সাংস্কৃতিক ক্লাব। আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
১২. গিরিধর দে – বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র: ‘বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র’ ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দেশের ইতিহাসের বিকৃতি রোধে ঐতিহাসিক দলিলাদি সংগ্রহ করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকালীন চেতনা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ইতিহাস ভিত্তিক ছবি সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। ভবিষ্যতে ডিজিটাল মিউজিয়াম চালু করতে চায় তারা। ফেসবুকে এই সংগঠনটির ফলোয়ার রয়েছে ১১ লাখ এবং তার প্রতিটি পোস্টের রিচ প্রায় ১ লাখ।
১৩. অর্নব দত্ত – প্রজন্ম: ময়মনসিংহের যুবাদের নিয়ে ২০১৯ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রজন্ম। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, ইচ্ছা ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চা ও তরুণদের এ বিষয়ে শেখানোর কাজ করছে এই সংগঠনটি। সামাজিক গদবাধা নিয়ম থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য তরুণ ও তাদের পরিবারকে উদ্বুদ্ধ করছে প্রজন্ম। কার্টুন ফেস্ট, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সাহিত্য মেলার মত অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করছে সংগঠনটি।
সামাজিক উন্নয়ন
১৪. মাহামুদুল হাসান – খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোটারেক্ট ক্লাব: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রোটারেক্ট ক্লাব’। আন্তর্জাতিক রোটারেক্ট ক্লাবের ‘রোটারেক্ট-কেইউএএ অক্সিজেন ব্যাংক’ প্রকল্পের আওতায় এই প্রতিষ্ঠানটি ৫৭ জনকে বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়েছে। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও খুলনার কয়রা ও বেদকাশীর ১২০০ মানুষকে শীতবস্ত্র-কম্বল দিয়েছে।
১৫. ফারিয়া আঞ্জুম খান ধ্রুবা – ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির রোটারেক্ট ক্লাব: আন্তর্জাতিক রোটারেক্ট ক্লাবের তত্ত্বাবধায়নে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির রোটারেক্ট ক্লাবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা সেবা দিয়ে থাকে। তারা সামাজিক কার্যক্রমের আওতায় প্রশিক্ষণ ও রক্তদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
১৬. রিগান কুমার কানু – বাংলাদেশ চা সম্প্রদায় ছাত্র যুব পরিষদ: ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ চা সম্প্রদায় ছাত্র যুব পরিষদ চা শ্রমিকদের মধ্যে নানা সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে থাকে। এরমধ্যে যুবকদের মাঝে মাদকবিরোধী লিফলেট, পোস্টার বিতরণ করে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে কুইজ প্রতিযোগিতা, ভর্তি পরীক্ষায় আবাসনে সহায়তা করে।
১৭. মো: নুরুল আলম – মেধাবী কল্যাণ সংস্থা (এমকেএস): ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত মেধাবী কল্যাণ সংস্থাটি (এমকেএস) আর্থিক কারণে পড়াশোনা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা দিয়ে থাকে। এর আওতায় চিলমারী, কুড়িগ্রামের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের খাদ্য, বস্ত্র ও আর্থিক বৃত্তি দেয়া হয়। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায় থেকে অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে তারা ১৪ জন শিক্ষার্থীকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সহায়তা ও ৫ জনকে নার্সিং ইনস্টিটিউটে ভর্তিতে সহায়তা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহায়তায় ২ তরুণী বিকেএসপিকে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া তারা আরও ৩৭৬ জনকে সহায়তা করছে।
১৮. জীবন ঘোষ – আমরা তাদের জন্য: ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আমরা তাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি জীবিকার কারণে প্রান্তিক যেসব জনগোষ্ঠী স্যানিটেশন, শিক্ষা ও প্রজনন স্বাস্থ্য পায় না তাদেরকে সহায়তা করে। তারা ৪টি স্কুলে প্যাড বুথ তৈরি করেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ দেয় ও ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সহায়তা করছে।
সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন
১৯. মির্জা গালিব সতেজ- স্বপ্নের খোঁজে: বাংলাদেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের যাযাবর শ্রেণী বেদে সম্প্রদায়কে নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে কাজ করছে স্বপ্নের খোঁজে। এই যাযাবর শ্রেণীর মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে খাবার সরবরাহ ও ওষুধ প্রদানসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার, পরিষ্কার সামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে এই সংগঠনটির পক্ষ থেকে। বেদে সম্প্রদায়ের জন্য বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা সহ তাদের শিশুদের জন্য ছোট পরিসরে শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে এই সংগঠনের মাধ্যমে। বেদেদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেটের ব্যবস্থাও করছে স্বপ্নের খোঁজে।
২০. ফাইরুজ ফাইজাহ বেথার – মনের স্কুল: তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় মনের স্কুল। এই সংগঠনটির পক্ষ থেকে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় কাউন্সিলিং প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমেও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার শিক্ষা প্রদান করা হয়। ২০১৯ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করে। এই সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের গতানুগতিক ধারার কারণে মানসিক চাপে থাকা প্রায় ১১ হাজার তরুণ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা লাভ করেছে। দেশের ৩৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সংগঠনের প্রতিনিধি রয়েছে যেখানে সফলতার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে মনের স্কুল।
২১. আনিকা সুবাহ আহমেদ – এভুলুশন৩৬০: নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নের লক্ষ নিয়ে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে এভুলুশন৩৬০। অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩ লাখ মানুষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এই সংগঠনটি। এ ছাড়াও অফলাইনেও হাজার হাজার মানুষ তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে এই সংগঠন। এ ছাড়াও সাইবার বুলিং, নারীর প্রতি অনলাইনে সহিংসতা বন্ধে সহায়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠনটি।
২২. লামিয়া তানজিন তানহা – ট্রান্সএন্ড: তরুণদের দ্বারা পরিচালিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সএন্ড ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। তৃতীয় লিঙ্গ এবং লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনটি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য, ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কাজ করছে। অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রে তাদের রয়েছে বেশ কিছু অসাধারণ অনুষ্ঠান। যার মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সচেতনতা কার্যক্রমও পরিচালনা করছে তারা। ট্রান্সএন্ড ৩ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি মানুষের মাঝে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মাধ্যমে ১৮৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক প্রশিক্ষণ লাভ করেছে যাদের সমাজে ‘হিজড়া’ বলে সম্বোধন করা হয়। এ ছাড়াও ১২৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিককে তারা মূল ধারার কর্মক্ষেত্রে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
২৩. মাশরুর ইশরাক – থার্ড আই: ‘শেয়ার দ্য রেসপনসিবলিটি’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় থার্ড আই। দৃষ্টিশক্তিহীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের মূল কার্যক্রম। এ ধরণের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অডিও বই, ক্লাস রেকর্ড, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উচ্চারণ প্রতিযোগিতা সহ কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে থার্ড আই। এই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় স্টেনোগ্রাফারের ব্যবস্থাও করছে সংগঠনটি। দৃষ্টিশক্তিহীন ৪০০ শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছে সংগঠনটি।
২৪. মোহাম্মদ জিহাদুল ইসলাম আল-আজাদ (মনীষা মিম নিপুন হিজড়া) – পথচলা ফাউন্ডেশন: তৃতীয় লিঙ্গদের দ্বারা পরিচালিত একটি সংগঠন পথচলা ফাউন্ডেশন। ২০১৯ সাল থেকে কাজ করে যাওয়া এই সংগঠনটি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে একীভূত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও যেনো সাধারণ সমাজে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে স্থান পায়। এই লক্ষ্য মানুষের মাঝে তৃতীয় লিঙ্গ সম্পর্কে তৈরি হওয়া বৈরি ধারণাগুলো ভাঙতে চায় তারা। এখন পর্যন্ত এই সংগঠনটি ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে পতিতালয় থেকে উদ্ধার করেছে। তাদের সংগঠনের কর্মশালাগুলোর মাধ্যমে ১ হাজার ১১২ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ কর্মক্ষেত্রে যোগদানের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ লাভ করেছে।
দক্ষতা ও কর্মসংস্থান
২৫. অমিয় প্রপান চক্রবর্তী (আরকা) – ধ্রুবতারা যুব উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (DYDF): ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ধ্রুবতারা যুব উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (DYDF) গত ২১ বছর ধরে দেশে যুব ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে কাজ করছে। ৪৪টি জেলায় তাদের কার্যক্রমে ৪৮ হাজার যুবক সহযোগিতা পেয়েছে।
২৬. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন (ডুমুনা): ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। তারা নেতৃত্ব বিকাশ, কূটনীতি ও গণ যোগাযোগ নিয়ে কাজ করে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
২৭. এসরাত করিম – অমল ফাউন্ডেশন: ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত অমল ফাউন্ডেশন দেশের চরাঞ্চলে জীবিকা, স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে ৫২ হাজারের বেশি মানুষ সুবিধা পেয়েছে। এছাড়া তাদের সামাজিক ব্যবসা আযোয়ায় নারীদের মাধ্যমে তৈরিকৃত পণ্য বিক্রি হরে ৫২ হাজার ইউএস ডলার আয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক শিশুদের ৩টি স্কুল পরিচালনা করছে। ফোর্বস সাময়িকীতে এশিয়ায় অনূর্ধ্ব ৩০ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
২৮. আরাফাতুল ইসলাম আকিব – স্টার্টআপ চট্টগ্রাম: ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপ চট্টগ্রাম দেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে কাজ করছে। এরইমধ্যে তারা ১৩৫ টির বেশি অনুষ্ঠান আয়োজন করে ১ লাখের বেশি তরুণকে যুক্ত করেছে। তারা ২০টি বিনিয়োগ কারী প্রতিষ্ঠান ও ৩০টি উদ্যোক্তার সঙ্গে তরুণদের যোগাযোগ করে দিচ্ছে। এজন্য তারা বিনামূল্যে কাজের সুযোগ ও নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে যাচ্ছে।
২৯. আবু হাসান (জয়তা পলি) – দিনের আলো হিজরা উন্নয়ন মহিলা সংস্থা: ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের উন্নয়নে দিনের আলো হিজরা উন্নয়ন মহিলা সংস্থা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে তারা হিজরা সম্প্রদায়কে উন্নয়নের মুল ধারায় যুক্ত করতে কাজ করছে। মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে হিজরা শিশুদের পড়াশোনা করার সুযোগ ও ট্রান্সজেন্ডারদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠেছে। তাদের ৯০০ সুবিধাভোগী রয়েছে।
৩০. আসমানী যুব নারী ফাউন্ডেশন: কিশোরী ও তরুণীদের জন্য ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় আসমানী যুব নারী ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠাতা নিজে বাল্যবিবাহ থেকে বেঁচে যাবার পর এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ২৯৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে। এছাড়া কর্মশালার মাধ্যমে ২৫৯৫ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। স্বল্পমূল্য স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে কারখানাও বানিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।
৩১. অনামিকা সান্নাল – এইচএসটিইউ মজার স্কুল: হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এইচএসটিইউ) ভিত্তিক মজার স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০১৫ সালে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহায়তায় শিক্ষার্থীরা আশপাশের এলাকার ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা দিয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত তারা ২০০ শিশুকে সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দেয় তারা। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে নানা কর্মসূচি আয়োজন করে থাকে।
