

ডেস্ক রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকারী ব্যক্তিরা পানির প্রবাহে ভেসে যাওয়া লোকজনকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টনিও শহরে তুমুল বৃষ্টির কারণে গুয়াদালুপ নদীর পানি বেড়ে এ বন্যা হয়।
বন্যায় কের কাউন্টির নদী–তীরবর্তী গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প মিস্টিক প্লাবিত হয়। বন্যায় ক্যাম্পে অংশ নেওয়া অন্তত ২৭ জন মেয়ে ও তত্ত্বাবধায়ক মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কমকর্তারা।
প্রবল বর্ষণের জেরে টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলে গুয়াদালুপে নদীর তীরবর্তী ৬ জেলা বা কাউন্টিতে গত ৪ জুলাই শুক্রবার আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কের কাউন্টিতে।
আবহাওয়াবিদেরা আরও বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শুক্রবার টেক্সাস সফর করার পরিকল্পনা করছেন। আবহাওয়া সংস্থার বাজেট কাটছাঁটের কারণে সতর্কতা ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে বলে সমালোচকেরা যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটির কঠোর সমালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বন্যার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যে দোষারোপ করা হচ্ছে, তা একেবারেই মিথ্যা। জাতীয় শোকের এই সময়ে এটি কোনো কাজে আসবে না।
এদিকে ক্যাম্প মিস্টিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে ২৮ জন কিশোরী ও তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে— তারা সবাই ক্যাম্প মিস্টিকের গ্রীষ্মকালীন আয়োজনে এসেছিলেন এবং এখনও ১০ জন নিখোঁজ আছেন।
আর যে ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২২ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০ জন শিশুর নাম-পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে নদীর দুই তীরে দেখা দেয় আকস্মিক বন্যা বা হড়কা বান। নদীর দুই তীরেই সামার ক্যাম্পের তাঁবু ফেলা হয়েছিল। ভোর ৪টার দিকে যখন হড়কা বান নদীর দুই তীরে আঘাত হানে—সে সময় প্রায় সবাই ঘুমিয়ে ছিল। ফলে বন্যা আসার আগে কেউ নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে পারেনি। যে কারণে নিখোঁজ-নিহতের সংখ্যাও বেড়েছে। বন্যার সময় নদীর পানি ২৬ ফুট বেড়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদেরা আরও বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে নদীর স্রোত, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও কর্দমাক্ত মাটির জন্য উদ্ধার কাজে গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না।
সূত্র: এএফপি, বিবিসি। ডেস্ক বিজে