ঢাকা এবং সিলেটে জমেছে ঈদের বাজার

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual3 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: বিক্রেতার হাঁকডাকে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সরগরম থাকছে বিপণিবিতানগুলো। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে দোকানগুলোতে। বিশেষ করে নামী ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকানে ক্রেতা সমাগম বেশি হলেও বেচাকেনা হচ্ছে তুলনামূলক কম।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র সপ্তাহখানেক। ঈদের আনন্দ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ নতুন পোশাক, জুতাসহ নিজেকে সাজানোর নানা জিনিসপত্র কেনা। সেই কেনাকাটার পালা রীতিমতো জমে গেছে এরই মধ্যে। পরিবার বা বন্ধুবান্ধব, স্বজন নিয়ে রাজধানীবাসী প্রতিদিনই ছুটছে মহানগরের বিপণিবিতানগুলোতে। আর এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার উঁচুতেই রয়েছে পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স। স্বস্তিদায়ক খোলামেলা পরিবেশে মানসম্পন্ন পণ্য কিনতে সচ্ছল মধ্যবিত্তসহ অনেকেরই পছন্দের এ বিশাল শপিং মল।

Manual4 Ad Code

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের ব্যবসায়ীরা বললেন, দ্রব্যমূল্যের বাড়তি আঁচের কারণে বেশির ভাগ মানুষ ঈদের খরচও কিছুটা হিসাব করে করছেন। তার পরও রাজধানীর অন্য অনেক বিপণিবিতানের চেয়ে বসুন্ধরার বিক্রি ভালো।

Manual1 Ad Code

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, বাইরের প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে অনেকেই এসেছেন বসুন্ধরা সিটিতে। বেশির ভাগ ক্রেতা এসেছেন সপরিবারে। বন্ধুদের নিয়ে দল বেঁধে এসেছে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অত্যাবশ্যকীয় পোশাক ও জুতা-স্যান্ডেল ছাড়াও গয়না, ঘড়ি, মোবাইল ফোন, অ্যাকসেসরিজ, ইলেকট্রনিকস, প্রসাধনী—ঈদে লাগতে পারে এমন সব সামগ্রীই মিলবে বসুন্ধরা সিটিতে।

Manual2 Ad Code

জিঞ্জিরার কদমতলী থেকে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলেন খলিল উল্লাহ। তিনি বললেন, ‘আমরা গিয়েছিলাম নিউ মার্কেটে। কিন্তু সেখানে আগুন লাগার কারণে এখানে চলে এসেছি। এখানে অনেক সুবিধাও আছে। এসির আরামে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়। সবাই জানে দাম এখানে হয়তো একটু বেশি হবে, কিন্তু ভালো মানের পণ্য পাওয়া যায়।’

একটি কনসালটেন্সি ফার্মে চাকরি করেন ইন্দিরা রোডের বাসিন্দা দীপক সাহা। সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন কেনাকাটা করতে। বলেন, ‘বিশ্ববাজারের যে অবস্থা, তাতে দাম একটু বাড়তেই পারে। কিন্তু মানুষের উৎসাহ তো কম দেখছি না। এত কিছুর পরও এত মানুষ কেনাকাটা করছে। ভালোই লাগছে।’
সিলেটের সিটি হার্ট শপিং মলের অনন্যা ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মার্কেটে ক্রেতারা আসছেন। তবে এখন কেনার চাইতে তারা দেখছেনই বেশি। ঈদের তিন-চারদিন আগে থেকে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে।’

Manual7 Ad Code

সিলেট মহানগরের হাসান মার্কেটের সোহাগ বস্ত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের মার্কেটের ক্রেতা মূলত গ্রামের মানুষজন। এখন গ্রামে এখন ধান কাটার মৌসুম চলার কারণে মার্কেটে ক্রেতা আসছেন কম। বিপণিবিতানগুলোতে এখন ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। দিনের তুলনায় রাতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। জেলার রামগঞ্জের জিয়া শপিং কমপ্লেক্সের প্রিয়জন ফ্যাশনের মালিক ফারুক হোসেন জানান, দিনে শিশুদের পোশাক বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। সন্ধ্যার পরও ক্রেতারা আসছেন কেনাকাটা করতে।
নাবিলা হক নামে এক গৃহিণী বলেন, ‘করোনার কারণে গেল দুব’ছর ঈদে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারিনি। তবে এবার ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি যাবো। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জন্য হ্যান্ডপেইন্টের শাড়ি কিনেছি। বাজেটের মধ্যে হওয়ায় স্বাচ্ছন্দে শাড়ি কিনতে পেরে অনেক খুশি আমি।’
মার্কেটে পোশাক কিনতে আসা নাসরিন আক্তার নামে একজন শিক্ষিকা জানান, ‘পোষাক, জুতাসহ সব কিছুর দাম খুব বেশি। দাম শুনে দামাদামি করতে মন চায় না। সবকিছুর দামই এবার বেশি মনে হচ্ছে।’
স্বপ্নলোকে ফ্যাশন হাউজের পরিচালক সুমন সাহা জানান, তার দোকানে সারারা আর লেহেঙ্গা বেশি বিক্রি হচ্ছে। করোনার আগের বছরগুলোতে তার ৩টি শোরুমে ঈদ কেন্দ্রিক বেচাকেনা হতো প্রায় ১ কোটি টাকার কাপড়। এবারও অর্ধকোটি টাকার পোশাক তুলেছেন দোকানে। কিন্তু ঈদের বেচাকেনা দেরিতে শুরু হওয়ায় সবগুলো পোশাক বিক্রি হবে কিনা- সে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code