দক্ষিণ সুরমায় জুয়ার আসরে ‘দফারফা’ করেন এএসআই আমিনুল

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual2 Ad Code

সিলেট প্রতিনিধি : এসএমপির দক্ষিণ সুরমা এলাকা জুয়াড়িদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। এটি নিয়ে বাংলানিউজইউএসএ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। এক পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি একদিকে যেমন রহস্যজনক অন্য দিতে এটি নিয়ে বিব্রত উর্ধ্বতন মহল। কেন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এমন বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করলে আসছে ভয়ঙ্কর তথ্য। পুলিশের একজন এএসআইয়ের কারণেই আটকে আছে অভিযান, এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

এদিকে, সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এই সূত্র ধরে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকও সংবাদটি ফলাও করে প্রকাশিত হয়। তার পরও পুলিশকে ম্যানেজ করে নেয়ার কারণে এখন দ্বিগুণ উৎসাহে চলছে এসব জুয়ার হাট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এসব সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এক পুলিশ কমকর্তা জুয়াড়িদের ডেকে নিয়ে এসব সংবাদে কিছুই হবে না মর্মে অভয় দিয়ে তাদেরকে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে জুয়াড়িরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আর পুলিশের সাথে জুয়াড়িদের এই সমন্বয়ের সু-কর্মটি করেছেন দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আমিনুল ইসলাম।

Manual5 Ad Code

আমিনুল ইসলাম। এসএমপির দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই। কিন্তু তিনি খুবই দুর্দান্ত প্রভাবশালী। ফাঁড়ির ইনচার্জও তার কাছে তুচ্ছ। দীর্ঘ দিন আগে তার বদলীর আদেশ জারি হলেও অদৃশ্য এক মায়ার জালে দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ি থেকে যেতে চাচ্ছেন না তিনি। কিন্তু কি মায়া এই ফাঁড়িতে?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় রয়েছে প্রায় ২০টি জুয়ার বোর্ড। এসব বোর্ড থেকে থানা পুলিশ ও ফাঁড়ির নামে প্রতিদিন রাতে একটি নির্দিষ্ট পরিমানের অর্থ কালেকশন করেন। আর তা ভাগভাটোয়ারা হয় নিজেদের মধ্যে। ফলে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করার আগেই তথ্য চলে যায় জুয়ারীদের কাছে। এসব কারণেই এএসআই আমিনুল দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ি ছেড়ে যেতে যাচ্ছেন না।

Manual1 Ad Code

সংশ্লিষ্টসূত্র মতে, থানা পুলিশ ও ফাঁড়ি পুলিশের নামে প্রতিদিন বিপুল পরিমানের অর্থ আদায় করলেও তার অনেক কিছুই জানেন না সিনিয়র কর্মকর্তারা।

Manual2 Ad Code

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এএসআই আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা জানিয়ে বলেন, আমি এভাবে তথ্য দিতে বাধ্য নই।

Manual2 Ad Code

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এসএমপির মুখপাত্র ও এডিসি (পদন্নোতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) বি.এম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, উল্লেখিত এএসআইয়ের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে। এসএমপিতে যেকোন ধরনের তীর শিলং, জুয়া এবং যেকোন প্রকার অণৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এসএমপি কঠোর ভাবে তৎপর রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code