দেশের অর্থনীতি সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে সরকারকে

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual8 Ad Code

সম্পাদকীয়: দেশের অর্থনীতিতে এখন সংকট চলছে। দিন যত যাচ্ছে, সংকট ততো ঘনীভ‚ত হচ্ছে। এই সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে নিয়ে এসেছে দুর্ভোগ। জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে একদিকে, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ওদিকে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা দূরে থাক, পুরোনোগুলোই টিকে থাকতে পারছে না। ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরাই ভালো আছেন শুধু, বাকিদের অবস্থা খারাপ। দেশের এ অবস্থার জন্য দায়ী কারণগুলো চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, মোটা দাগে তিন কারণে সৃষ্টি হয়েছে অর্থনীতির এ সংকট। প্রথমটি হলো, দীর্ঘদিন থেকে রাষ্ট্রীয় খাতগুলোর সংস্কার হয়নি। দ্বিতীয় কারণ, করোনার অভিঘাতে অর্থনীতির চাকা ঠিকমতো ঘুরতে পারেনি, অধিকন্তু জনজীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত।
তৃতীয়ত, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলসহ দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ তো গেল মোটা দাগের তিন কারণ। ওদিকে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে চার ধরনের বিচ্যুতি রয়েছে। এগুলো হলো-ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ না হওয়া, কর আহরণে দুর্বলতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাব এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বৈষম্য। তার মতে, আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনাই অর্থনীতির স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হওয়া উচিত।
আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট অদূর ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তিন ধরনের সংকটে পড়তে পারে দেশ। প্রথমত, খাদ্য আমদানি ব্যাপকহারে বাড়াতে হতে পারে, যা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। দ্বিতীয়ত, ইতোমধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোয় মন্দায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এর প্রভাবে রপ্তানি অর্ডার বাতিল হচ্ছে। ফলে কমে যেতে পারে রপ্তানি আয়। তৃতীয়ত, এলসি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। একইসঙ্গে বাড়ছে বকেয়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধও। এতে বৈদেশিক মুদ্রা ও বিনিময় হারে সংকট আরও ঘনীভ‚ত হতে পারে। সবটা মিলে আগামীতে দেশ পড়তে পারে বড় ধরনের চাপে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code