নারীদের ধর্ম প্রচারে ইসলাম কী বলে?

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

ধর্ম ডেস্কঃ 

ইসলাম বিশ্বজনীন এক ‍চিরন্তন ও শাশ্বত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলামে রয়েছে নারীর সম্মান, মর্যাদা ও সকল অধিকারের স্বীকৃতি।

ইসলাম নারীকে মানবসভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং মৌলিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদায় পুরুষের সমান অংশীদার মনে করে।

মানবসভ্যতার বিকাশে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো।’ (সুরা: হুজরাত, আয়াত: ১৩)

Manual5 Ad Code

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘পুরুষ ও নারীদের মধ্যে যে ঈমানের সঙ্গে ভালো কাজ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি অণু পরিমাণ অবিচার করা হবে না।’ (সুরা: নিসা, আয়াত: ১২৪)

Manual1 Ad Code

ইসলাম প্রচারে পুরুষদের মতো নারীদেরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। দ্বীন তথা ইসলামের প্রচার-প্রসারে নারীদের যথাযথ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মানবজীবনে পূর্ণ দ্বীন বাস্তবায়ন এবং ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা অর্জন সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই নারীরা হলো পুরুষদের সহোদরা।’

পবিত্র কোরআনে এমন একাধিক নারীর উল্লেখ রয়েছে, যারা মানব ইতিহাসের নানা অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘(বহু) পুরুষ নারীর সমতুল্য নয়।’ (সুরা: আলে-ইমরান, আয়াত: ৩৬)

এই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিদের মধ্যে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ছিল। ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর জীবন এক মহিমান্বিত জীবন। ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

Manual4 Ad Code

ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে যেসব নারী জীবনের মায়া ত্যাগ করে সোনালি ইতিহাস গড়ে গেছেন, তাদের অনুসৃত পথেই বর্তমানের নারীদের চলতে হবে। সে পথে চলার জন্য সম্মিলিতভাবে সব নারীকে আহ্বান করতে হবে। তাহলেই নারী জীবনে পূর্ণতা আসবে।

তাই নারীদের প্রধানতম কর্তব্য হলো সমাজের বিভিন্ন মহলের নারীদের কাছে ইসলামের অমিয় বাণী পৌঁছানো, দ্বীনের আলো ছড়ানো।

দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে হলে দ্বীনকে প্রচারের মাধ্যমে মজবুত করতে হবে।হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। মানুষের যাবতীয় কল্যাণ ও সফলতা আল্লাহর আদেশ পালন ও সুন্নতওয়ালা কাজের মধ্যে নিহিত।

ইতিহাস সাক্ষী, বহু নারী আল্লাহর রাস্তায় মেহনতের মাধ্যমে অলংকৃত করে গেছেন এই দ্বীনকে। যুগশ্রেষ্ঠ সেই নারীদের সংখ্যা কিন্তু কম নয়।

বলা হয় নারীর সাধনাই হলো মহান ব্যক্তিত্বের মূল ভিত্তি। নারী সাহাবিরা দৃঢ় মনোবল, ধৈর্য, আগ্রহ ও অসীম সাহসিকতার বলে ইসলাম ধর্মের খেদমতে অপূর্ব দৃঢ়তার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন, যা ইতিহাসে বিরল।

ঐতিহাসিক মহীয়সী নারীরা হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন রক্ষার্থে প্রাণপণ যুদ্ধ করে শত্রুদের মোকাবিলা করেছিলেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য সাধ্যানুযায়ী দাওয়াতি কাজ করা তথা ইসলাম প্রচারে অবদান রাখা ফরজ। তবে সকলেই

অবশ্যই ইসলামি শরিয়তেরর গণ্ডীর মধ্যে থেকে তা করবে। ইসলামি শরিয়তের বিধান লঙ্ঘন করে দাওয়াতি কাজ করা বৈধ নয়।

Manual7 Ad Code

যা হোক, আধুনিক যুগে পর্দা রক্ষা করে এবং শরিয়তের সীমারেখার মধ্যে থেকে নারীদেরও ইসলাম প্রচারে অংশ গ্রহণের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

নিম্নে মহিলাদের দাওয়াতি কার্যক্রম করার দশটি পদ্ধতি ও ধারণা পেশ করা হল:

১. নিজ স্বামী/ সন্তান-সন্ততিকে ইসলামের সঠিক আদর্শ শিক্ষা দেয়া। সন্তানদেরকে ইসলামের আলোকে গড়ে তোলার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাওয়াতি কাজ আর নেই। একজন নারী তার সন্তানদের প্রথম শিক্ষক এবং মায়ের কোল সন্তানের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সুতরাং প্রতিটি মা যদি তার সন্তানকে ইসলামের আলোকে গড়ে তোলেন তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে এই শিক্ষা তার জীবনে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে ইনশাআল্লাহ।

২. নিজ আবাস গৃহে পার্শ্ববর্তী মহিলাদেরকে ইসলাম শিখানোর ব্যবস্থা করা। যেমন: সাপ্তাহিক বা মাসিক দরসের ব্যবস্থা। তবে এ ক্ষেত্রে বাড়িতে আগন্তুক মহিলাদের জন্য পূর্ণ পর্দার বন্দোবস্ত করা জরুরি।

৩. স্বামী বা মাহরাম সহকারে দূরে কোথাও দাওয়াতি কাজের জন্য গমন করা। কিন্তু স্বামী বা মাহরাম ছাড়া দূর দূরান্তে দাওয়াতি কাজ করতে যাওয়া বৈধ নয়; অন্য মহিলাদের সাথে হলেও। যেমনটি বর্তমানে অনেক স্থানে দেখা যায়।

৪. মহিলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত হলে ছাত্রীদের মাঝে দাওয়াতি কার্যক্রম করা।

৫. ঘরে বসে ইসলাম বিষয়ে লেখা ও তা বই/লিফলেট আকারে প্রকাশ করা এবং বিভিন্ন ম্যাগাজিন বা পত্রিকায় ছাপানোর জন্য পাঠানো।

৬. ঘরে বসে ওয়েবসাইট/ব্লগ পরিচালনা করা ও তাতে ইসলাম বিষয়ে লেখালেখি করা।

৭. ফেসবুক, টুইটার সহ বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেয়া।

৮. নিজে বই-পুস্তক লেখার যোগ্যতা না রাখলে অর্থ দিয়ে কোন ভালো মানের আলেমের লেখা বই ছাপিয়ে সেগুলো বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা।

৯. মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, ছাত্রী হোস্টেল, হসপিটাল বা নিজস্ব কর্মস্থলে ছাত্রী/মহিলা সহকর্মীদের মাঝে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করা।

১০. মোবাইল, মেমোরি কার্ড বা ফ্লাশের মাধ্যমে সহীহ আকিদা নির্ভর আলিমদের বিভিন্ন লেকচার অন্যদের সাথে শেয়ার করা অথবা ভালো মানের বক্তৃতাগুলো বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়া।

তবে সর্বাবস্থায় মনে রাখতে হবে যে, দাওয়াতি কাজে এত বেশি মগ্ন থাকা উচিৎ নয় যে, স্বামী-সন্তানদের উপর অপরিহার্য হক আদায়ে গাফলতি সৃষ্টি হয়।

মহান রাব্বুল আ’লামীন এসব পূর্ণাঙ্গরুপে পালন করার তাওফিক সকলকে দান করুন। আমীন।

লেখক: সাবরিনা ওবায়েদ আনিকা 

শিক্ষার্থী,বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code