নিজ নিজ গ্রামেই পুনর্বাসিত হতে চায় নো ম্যান্স ল্যান্ডের রোহিঙ্গারা

লেখক:
প্রকাশ: ৯ years ago

Manual7 Ad Code

নিজ গ্রামেই পুনর্বাসিত হতে চান বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের মধ্যবর্তী নো ম্যান্স ল্যান্ডে আটকেপড়া রোহিঙ্গারা। সাময়িকভাবে ট্রানজিট ক্যাম্পে থাকার জন্য মিয়ানমার সরকারের দেয়া প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন তারা। রোহিঙ্গাদের আশঙ্কা অল্প সময়ের জন্য ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখার কথা বলা হলেও তাদের সেখানে দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখবে মিয়ানমার সরকার। তাই শুধু নিজ গ্রামেই ফিরে যাওয়ার শর্তেই প্রত্যাবাসনে রাজি হবেন তারা। গত রোববার নো ম্যান্স ল্যান্ডের রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছন।

মিয়ানমার বাহিনীর গণহত্যা থেকে বাঁচতে গত আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ এসেছে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আরো অন্তত ৬ হাজার রোহিঙ্গা দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী নো ম্যান্স ল্যান্ডে তাঁবু টানিয়ে থাকছেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।

Manual8 Ad Code

এ অবস্থাতেই রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালিয়ে আলামত নষ্ট, বিপুল সামরিকায়ন ও বৌদ্ধদের জন্য মডেল গ্রাম গড়ে উঠছে। আর রোহিঙ্গাদের জন্য অন্যত্র বানানো হচ্ছে ক্যাম্প। প্রত্যাবাসন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্থায়ী ক্যাম্পগুলো তৈরি করার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। এগুলোকে ‘আদর্শ গ্রাম’ বলেও ডাকেন তারা। এসব আদর্শ গ্রামকে স্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসঙ্ঘ এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে। বহু আগেই অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পকে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে আখ্যা দিয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)।

Manual1 Ad Code

রোহিঙ্গারা বলেন, চাপের কাছে নতিস্বীকার করে তারা মিয়ানমারে ফেরত যাবেন না, আবার বাংলাদেশেও ঢুকবেন না। প্রয়োজনে নো ম্যান্স ল্যান্ডেই থাকবেন। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাৎকারে দিল মোহাম্মদ নামের ৫১ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রবেশের কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই। আমরা বাঙালি নই। আমরা মিয়ানমারের মূল নাগরিক।’ দিল মোহাম্মদ জানান, নো ম্যান্স ল্যান্ডে থাকা ৬ হাজার বাসিন্দা কেবল তখনই মিয়ানমারে ফিরে যাবে, যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code