

মো. মানিক মিয়া, লৌহজং-
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রবেশপথ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাট। এ ঘাট দিয়ে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ২১ জেলার কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকেন। ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলারে চড়ে পাড়ি দেন যাত্রীরা। লঞ্চ, ফেরি, ট্রলারের থেকে বেশি ভাড়া থাকার পরেও স্পিডবোটে সবচেয়ে দ্রুত অল্প সময়ে গন্তÍব্যে পৌঁছাতে পারেন বলেই যাত্রীদের প্রথম পছন্দ স্পিডবোট। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচুর ভিড় জমে শিমুলিয়াঘাটে। স্পিডবোট ড্রাইভার, স্টাফসহ প্রায় সহ¯্রাধিক কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন এ ঘাটে। সারাদিন শ্রম দিয়ে কিছু টাকা উপার্জন করে সংসার চালান কর্মরত ড্রাইভার ও স্টাফগুলো। কিন্তু কিছুদিন পরে থাকবে কি সে উপার্জন? নানান প্রশ্ন-চিন্তাভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে এ সকল স্টাফদের মনে। কেননা কিছুদিন পরে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। তখন কি শিমুলিয়ার এ নৌপথটি থাকবে? না থাকলে কি করবেন তারা। কোথায় যাবেন? পাবেন কি দুমুঠো আহারের খোঁজ?
সে প্রশ্নের খোঁজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে একদল যাত্রী স্পিডবোটের দিকে যাচ্ছিলো। তখন আবদুল জব্বার নামক এক স্পিডবোট ড্রাইভার তাদের দিকে এগিয়ে এসে স্পিডবোটে তুলে নেন। তারপর হয় তার সাথে। প্রশ্ন করা হয়- খুব শীঘ্র্রই তো পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে তখন তো শিমুলিয়াঘাট দিয়ে কেউ পারাপার হবে না। সবাই ব্রীজ দিয়ে চলাচল করবে। আর ঘাট যদি না থাকে তাহলে কি করবেন? তখন তিনি মুখের দিয়ে তাকিয়ে অনেকটা সময় পরে চিন্তিত সুরে বলছেন। কতদিন লাগতে পারে পদ্মা সেতু চালু হতে। তার প্রশ্নের জাবাব বলা হলো ২০২১ সালের মধ্যেই সরকার পদ্মাসেতুর উদ্বোধন করে ফেলবে। আর যেভাবে দ্রুতগতিতে পদ্মা সেতুর কাজ হচ্ছে এতে মনে হচ্ছে ২০২১ এর ডিসেম্বরের মধ্যেই উদ্বোধন হয়ে যেতে পারে। তখন তিনি বললেন, আমার বাসা শরীয়তপুরে আমি এর আগে ট্রলার চালিয়ে মাছ ধরতাম। শিমুলিয়ায় ঘাট আসার পর থেকেই এখানে স্পিডবোট চালাই। পদ্মা সেতু হয়ে গেলে আবারও আগের পেশায় চলে যাবো। এ দিকে আরেক স্টাফ শহিদুল ইসলাম জানান, আমি সারাদিনে ৪০০ টাকা পাই। মাঝিরঘাট বলে যাত্রীদের স্পিডবোট দেখিয়ে দেই। এটাই আমার কাজ। সেতু হয়ে গেলে ঢাকায় কোন দোকানে চাকুরী করবো। আমি পড়াশোনা বেশি করি নাই। আর টাকা পায়সাও নাই, না পারবো ভালো একটা চাকুরী করতে, না পারবো ব্যবসা বাণিজ্য করতে। কাশেম মিস্ত্রী জানান, অহনও এবিষয়ে চিন্তাভাবনা করি নাই। আমরা গরীব মানুষ দিনমজুরীর কাজ ছাড়া আর কি করতে পারমু।
শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি ঘাটের স্পিডবোটের কাউন্টার ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের এ ঘাটে প্রায় হাজারক্ষাণেক ড্রাইভার, স্টাফ রয়েছে। পদ্মা সেতু হলে স্পিডবোটও থাকবে না আর ড্রাইভার ও স্টাফ থাকবে না। তখন যে যার মতো অন্য কাজ করবে।