পারপেচুয়াল বন্ডে আজীবন সুদ প্রদানের শর্ত প্রত্যাহার বিএসইসির

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual1 Ad Code

অর্থনীতি ডেস্কঃ 

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার জন্য পারপেচুয়াল (আজীবন মেয়াদি) বন্ড ইস্যু করলে ওই বন্ডের বিপরীতে আজীবন কূপন বা সুদ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত নীতিমালা মেনে নিয়েছে।

Manual5 Ad Code

ইতিপূর্বে যে আট ব্যাংকের পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যু করার অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আজীবন কূপন বা সুদ প্রদানের যে শর্ত দিয়েছিল বুধবার তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিএসইসি।

Manual7 Ad Code

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুরোধে এ শর্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো পারপেচুয়াল বন্ড অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিএসইসি এমন শর্ত দেবে না।

Manual7 Ad Code

বিএসইসির মুখপাত্র আরও জানান, ইতিপূর্বে পূবালী, ওয়ান, প্রিমিয়ার, স্ট্যান্ডার্ড, এক্সিম, যমুনা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট এবং এবি ব্যাংকের পারপেচুয়াল বন্ডের ক্ষেত্রে এসইসি অধ্যাদেশ ১৯৬৯ এর ২সিসি ধারা বলে কখনো কূপন/সুদ প্রদান বন্ধ করা যাবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

এ শর্ত প্রত্যাহারের বিষয়টি এসব ব্যাংককে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কমিশনের এ শর্ত প্রত্যাহারের ফলে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এ ধরনের ইস্যু করা বন্ডের ক্ষেত্রে কূপন বা সুদ প্রদান স্থগিত করতে পারবে। তবে কেবল লোকসানে পড়লে তখনই এ ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে ব্যাংকগুলো। মুনাফা থাকা অবস্থায় কূপন বা সুদ না দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যু করা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানও কখনো লোকসান করতে পারে। তখনও কূপন দিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত দুর্বল হয়ে যায়। এ কারণে এ সংক্রান্ত শর্ত প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে বুধবার বিশেষ কমিশন সভা করে বিএসইসি শর্তটি প্রত্যাহার করে নেয়।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী, মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যু করলে, বন্ড হোল্ডারকে যে কোনো সময় কূপন বন্ধ করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে রাখতে হবে।

এ শর্তের বিপরীত শর্ত দিয়ে একের পর এক পারপেচুয়াল বন্ডের অনুমোদন দিয়েছিল বিএসইসি। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, এ শর্ত লঙ্ঘন করে কোনো ব্যাংক পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যু করলে ওই বন্ডকে মূলধন পর্যাপ্ততার শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

Manual8 Ad Code

এ অবস্থায় বিএসইসির বিশেষ শর্তসহ পারপেচুয়াল বন্ডের অনুমোদন পাওয়া আট ব্যাংক বেকায়দায় পড়েছিল। এটা নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনও তৈরি হয়।

গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামও এ বিষয়ে তার উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন।

সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম উল্লেখ না করলেও একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, শেয়ারবাজার ইস্যুতে বিএসইসি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নাই। বিএসইসির কাজে অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হস্তক্ষেপ করলে কাজ করতে অসুবিধা হয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, পারপেচুয়াল বন্ড অনেকটা মূলধনের মতো। এমন বন্ডের মূল টাকা কখনোই ইস্যুকারি প্রতিষ্ঠানের ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। এখন যে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভালো অবস্থায় আছে, তা আগামীতে কোনোদিনই খারাপ দশায় পড়বে না- এমন নিশ্চয়তা নেই। লোকসান হওয়ার পর তখনও বাধ্যতামূলকভাবে কূপন দিতে হলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে পারে। এ অবস্থা এড়ানোর জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই শর্ত দিয়েছিল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code