পার্বত্য ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন রিপোর্ট না দেয়ায় ভূমি জরিপ শুরু হচ্ছেনা ………. ভূমি সংষ্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা,

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশ ভূমি সংষ্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াকুব আলী পাটোয়ারী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন যত দ্রুত রিপোর্ট দিবে তত তাড়াতাড়ি পার্বত্য এলাকায় ভূমি জরিপের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। ভূমি জরিপ শেষ করে খতিয়ান করা গেলে পার্বত্য এলাকায় ৯০ শতাংশ ভূমি সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান লামা উপজেলায় সরকারি সফরে আসলে বিকেলে তিনি লাইনঝিরি বিএটিবি রেস্ট হাউজে উপজেলা জনপ্রতিনিধি, সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। সে সময় তিনি এইসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ক্রাইমের যে সংজ্ঞা তাতে অধিকাংশ অপরাধ সংগঠিত হয় ভূমি অথবা সম্পদের বিরোধের কারণে। সমতল এলাকা থেকে পাহাড়ি এলাকায় ভূমি সমস্যা বেশী। পাহাড়ে নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙ্গালীদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তার মূল কারণ হচ্ছে ভূমি। পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন ১৯০০ যা পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল হিসাবে অধিক পরিচিত তাতেও নৃ-গোষ্ঠীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি সরকার তাতে সম্মতি দিয়েছে। সেটাকে প্রধান্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন তাদের প্রতিবেদন দিতে পারে। এইটাকে জিইয়ে রাখার কোন মানে হয়না।
লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল পাহাড়ে বাহিরের বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি জমি লিজ ও হস্তান্তরের বিষয়টি অবহিত করলে ভূমি সংষ্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন বাহিরের (ঢাকা-চট্টগ্রাম) লোক পাহাড়ে বিনিয়োগ না করলে পাহাড়ের উন্নতি হবে না। বাহিরের লোক পাহাড়ে যত অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও শিল্প কারখানা হবে তত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তবে এই ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সুবিধা থাকতে হবে ৯০ শতাংশ। তিনি এই প্রসঙ্গে গার্মেন্টস শিল্পকে উদাহরণ দেন।
জরিপে আর হোল্ডিং বাতিল করা হবে কিনা ? স্থানীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নত্তোরে তিনি বলেন, ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে খতিয়ান বা নকশা সম্পূর্ণ করা হবে। তাতে যার যে অবস্থা সেভাবে খতিয়ানে উল্লেখ করা হবে। জরিপকালীন সীমানা নিয়ে কোন সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে করা যাবে। তা সরজমিনে বিবেচনা করা হবে। স্থানে সমাধান না হলে তারা আপীল করতে পারবে। তাতেও নিষ্পত্তি না হলে জমির মালিকরা সিভিল কোর্টে যেতে পারবে। আর হোল্ডিং বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। জরিপ হয়ে গেলে ভূমি আইন মতে একক ব্যক্তি ১শত বিঘার বেশী জমি পাবেনা।
একান্ত মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে ভূমি সংষ্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, এই এলাকায় (লামা উপজেলা) পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হবে। তিনি লামা উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে এসে লামাকে দার্জিলিং হিসাবে আখ্যাহিত করেন। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের এক হয়ে পর্যটন শিল্প বিকাশে কাজ করতে পরামর্শ দেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল, বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ শফিউল আলম, লামা পৌরসভার মেয়র মোঃ জহিরুল ইসলাম, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজা রশীদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহফুজা জেরিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জাহেদ উদ্দিন, রূপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মারমা, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন, লামা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সহ প্রমূখ।
সকালে তিনি লামার সরই ইউনিয়নের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ও দুপুরে লামা ভূমি অফিস ঘুরে পরিদর্শন রেজিষ্ট্রারে নিজস্ব মতামত ও মন্তব্য তুলে ধরেন।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code