

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনথিভুক্ত অভিবাসী গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়ানোর নির্দেশনা পেয়েছেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের কর্মকর্তারা। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন অতিরিক্ত এক হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৈনিক মোট তিন হাজার এবং সপ্তাহে ১৯ হাজার গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিএনএনকে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার আইসের নেতৃত্ব পর্যায় থেকে দেশজুড়ে কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল। নতুন লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দৈনিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্য নিয়মিত পূরণ করতে পারেনি আইস। এবার আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাপ্তাহিক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার। সাধারণত সপ্তাহান্তে অভিযান কম হয় এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তার সংখ্যাও কম থাকে। সে কারণে দৈনিক লক্ষ্যের তুলনায় সাপ্তাহিক হিসাব কিছুটা কম রাখা হয়েছে। তুলনামূলক হিসাবে, গত জুনের শেষ দিকে এক সপ্তাহে আইসের গ্রেপ্তার হয়েছিল সাড়ে ১২ হাজারের কিছু বেশি, যা সে সময়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের কোনো কোটা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, আইসের কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো গ্রেপ্তার কোটা নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মালিনের নেতৃত্বে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মালিনও এর আগে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের কোটা নিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের কারও সঙ্গে আলোচনা করেননি। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা কোনো অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংস্পর্শে এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করুন না কেন।
এদিকে আইসের গ্রেপ্তারের সংখ্যা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ৪৬ হাজারের বেশি এবং আগস্টে প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগস্টের সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে নতুন মাসিক রেকর্ড। গ্রেপ্তার বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আটক রাখার জায়গার সংকটও তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইসের অফিসগুলোতে অতিরিক্ত অস্থায়ী আটক ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে অস্থায়ী আটক ইউনিট, জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রক্রিয়াকরণ কক্ষ এবং ভার্চুয়াল ইমিগ্রেশন আদালতের শুনানির সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে অভিবাসন অভিযানের ধরন নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে অপরাধের রেকর্ড নেই এমন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। ফ্লোরিডার কংগ্রেসওম্যান মারিয়া এলভিরা সালাজার সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন। কৃষি খাতের প্রতিনিধিরাও আইসের অভিযানের কারণে শ্রমিক সংকট ও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে গাড়ি থামিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা কর্মকর্তারাই গাড়ি থামিয়ে অভিযান চালাতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট গাড়িতে জরুরি বাতি ও সাইরেন থাকতে হবে। তবে আইসের দাবি, এটি নতুন কোনো নীতি নয়, বরং প্রচলিত নিয়মের পুনঃস্মরণ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন ইস্যু আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশাসন গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে চাইছে, অন্যদিকে অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি এবং অপরাধের রেকর্ডবিহীন অভিবাসীদের গ্রেপ্তার নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তবে দৈনিক তিন হাজার এবং সাপ্তাহিক ১৯ হাজার গ্রেপ্তারের সংখ্যা এখনো প্রশাসনের লক্ষ্য হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। নতুন নির্দেশনার পর বাস্তবে প্রতিদিন এতসংখ্যক অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কি না, তার নিশ্চিত পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।