প্রাশাসনের কড়াকড়ির মধ্যেও শহর থেকে গ্রামে ফিরছে মানুষ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

বেড়া,(পাবনা) ঃ
যমুনা- পদ্মা নদী সংলগ্ন পাবনার বেড়া উপজেলার প্রায ৬টি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার যমুনা-পদ্মা নদী সংলগ্ন এলাকা সমূহে প্রতিদিন সন্ধ্যা, রাত ও ভোরে শহর থেকে ফিরে আসছে মানুষ। ঢাকা নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা সাভার গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছুটা পায়ে হেঁটে, অটোরিকশা ভ্যান,ইজিবাইক, সিএনজি,পিকআপ ও মালবাহী যানবাহনে র্গামেন্টস,এনজিও দোকান, অফিসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত কর্মীরা নিজ বা তাদের পরিজন নিয়ে নিজেদের গ্রামে ফিরে আসছে। গ্রামে ফিরে আসার চাপ প্রথম দিকে বেশী থাকলেও ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি থাকায় লোকজনের গ্রামে ফিরে আসা কমতে থাকে।
ছুটি বাড়ানোর সম্ভবনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং সোস্যাল মিডিয়ায় সরকার আরো দুই সপ্তাহ ছুটি বাড়াতে পারে এমন সংবাদের ভিত্তিতে লোকজন গ্রামের বাড়ি চলে আসছে আসার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে বেড়ার নদী তীরবর্ত্তী এলাকা বসবাসকারিদের কাছ থেকে জানা যায়। উপজেলার ঢালারচর, আমিনপুর, মাসুমদিয়া,রুপপুর,কৈটোলা ও হাটুরিয়া-নাকালিয়া এই ইউনিয়নগুলোর রয়েছে অনেক বড় চর অঞ্চল । এই বিশাল চরাঞ্চল এলাকায় নজরদারি করা প্রায় অসম্ভব,সেই সাথে রয়েছে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর চরাঞ্চল।
নারায়ণগঞ্জ,ঢাকা,গাজীপুর সাভার হয়ে শিবালয় উপজেলার আরিচা,তেওতা,ও তেওতা বাসেত। দৌলতপুর উপজেরার বাচামারা ও চরকাটারী। নাগরপুর উপজেলার কাদিনা,মাইঝালি ও আটাপাড়া। চৌহালি উপজেলার ওমরপুর স্থল ও সাদিয়া চাদপুর ইউনিয়নের যমুনা সংলগ্ন এলাকা সমুহের বিভিন স্থান দিয়ে যমুনার পূর্বপারে এলাকা থেকে ছোট বড় এমনকি মাছ ধরার নৌকা দিয়ে যমুনা নদী পার হয়ে বাড়ী ফিরে আসছে। কখনও কখনও প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে গ্রামে ফেরার জন্য চরাঞ্চলে নেমে স্থানীয় নৌকা বা খেয়া পাড়াপাড়ের নৌকায় নদী পাড় হয়ে আসছে। চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বেচা-কেনা,চিকিৎসা ও ঔষুধ পত্রের জন্য যমুনার পশ্চিম পাড়ের হাট-বাজার ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন কমবেশী চরাঞ্চলের মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। এখানে বহিরাগতদের পৃথক ভাবে চিহ্নিত করার কোন সুযোগ থাকেনা। নৌপথ বন্ধ থাকার ঘোষণা থাকলেও সপ্তাহের প্রতিদিনই চরাঞ্চল থেকে শত শত লোক গাদাগাদি করে,শারিরিক দূরত্ব না মেনে নৌকায় নদী পরাপার হচ্ছে। মারণব্যাধি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে নেই সামান্য সচেনতা। নিজের ও পরে নিরাপত্তার জন্য মাস্ক,রুমাল,গামছা বা কাপড়ের টুকরো দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখার কোনো চেষ্টা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। হাট-বাজার গুলোতে যেন আইন,উপদেশ ও অনুরোধ ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা। ইউনিয়নের হাট বাজার গুলোতে শহর থেকে আসা মানুষ অবাধে চলাফেরা করছে। সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থানের কারনে এদেরকে নিয়ে সবাই চুপ থাকে।
সম্প্রতি জেলার চাটমোহর উপজেলায় নারায়ণগঞ্জ থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আসা পুত্রের সংর্স্পশে এসে পিতাও আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন এবং বেড়া উপজেলার সীমানা সংলগ্ন সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের এক গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ীতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং রক্তের নমুনা পরিক্ষায় করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। যে কিনা একটি ট্রাকে গাদাগাদি করে বাড়ী এসেছিল। প্রশাসনে সার্বিক চেষ্টা করে যাওয়া সত্বেও আইন না মানার প্রতিযোগিতা। উপজেলার জনগন নিজেরা সচেতন না হলে এলাকায় করোনা ভাইরাসের প্রর্দূভাব দেখা দিতে পারে ,নেমে আসতে পারে বিপর্যয়।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code