বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার দশকে পদার্পণ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

দেশের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখন এসব সেবার গ্রাহক। সারা দেশে এসব সেবায় নিবন্ধন হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি। যদিও সক্রিয় ব্যবহারকারীর হিসাব ৫ কোটির কিছুটা কম। ১২ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের দেশে এই সংখ্যা নেহাত কম নয়।

Manual3 Ad Code

এখন মোবাইল ব্যাংকিং শুধু টাকা পাঠানোর মাধ্যম না। এর ব্যবহার হচ্ছে সব ধরনের ছোট ছোট লেনদেনে। বিশেষ করে পরিষেবা বিল পরিশোধ, স্কুলের বেতন, কেনাকাটা, সরকারি ভাতা, টিকিট ক্রয়, বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ ও অনুদান প্রদানের অন্যতম মাধ্যম। আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা জমা করতে এখন আর এজেন্টদের কাছেও যেতে হচ্ছে না। ব্যাংক বা কার্ড থেকে সহজেই টাকা আনা যাচ্ছে এসব হিসাবে। আবার এসব হিসাব থেকে ব্যাংকেও টাকা জমা শুরু হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড বা সঞ্চয়ী আমানতের কিস্তিও জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর ফলে একটি মুঠোফোনই যেন একেকজনের কাছে নিজের ব্যাংক হয়ে উঠেছে।

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশে মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবার যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের মার্চে। বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম এ সেবা চালু করে। পরে এটির নাম বদলে হয় রকেট। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমএফএস সেবা চালু করে বিকাশ। পরবর্তী সময়ে আরও অনেক ব্যাংক এ সেবায় এসেছে। তবে খুব সুবিধা করতে পারেনি। বর্তমানে বিকাশ, রকেটের পাশাপাশি মাই ক্যাশ, এম ক্যাশ, উপায়, শিওর ক্যাশসহ ১৫টি ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। এ বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি বিকাশের নিয়ন্ত্রণে, এরপরই রকেটের। বাকিটা প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু লেনদেন হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি শেষে এ সেবার গ্রাহকসংখ্যা ১০ কোটি ৫ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় গ্রাহক ৩ কোটি ২৪ লাখ। আর দেশজুড়ে এ সেবা দিতে এজেন্ট রয়েছেন ১০ লাখ ৪৪ হাজার। জানুয়ারিতে গড়ে দৈনিক লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। এই মাসে সব মিলিয়ে ২৯ কোটি ৯২ লাখ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বিকাশের গ্রাহক ৫ কোটি ৪০ লাখ ও রকেটের গ্রাহক ৩ কোটির বেশি। এর বাইরে ডাক বিভাগের সেবা নগদের নিবন্ধিত গ্রাহক ৩ কোটি ৮০ লাখ। তবে সক্রিয় গ্রাহক ১ কোটি ৭৫ লাখের কাছাকাছি। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। ২০১৯ সালের মার্চে চালু করা এই সেবা দুই বছরে বড় বাজার নিয়েছে। এ লেনদেন চিত্রেই বোঝা যায়, মানুষ কতটা এই সেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। মানুষের জীবনের সঙ্গে কতটা মিশে গেছে নতুন এই সেবা।

Manual7 Ad Code

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যেমন শিল্পপতিদের জন্য সুবিধা করে দিয়েছে, আবার রোকসানা বেগমের মতো গৃহকর্মী ও কম আয়ের মানুষের কাছে বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। কারণ, অনেক শিল্পপতিকে এখন আগের মতো মাস শেষে ব্যাংক থেকে বস্তায় টাকা ভরে কারখানায় নিতে হয় না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন–ভাতা চলে যায় শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে।

  • বাংলাদেশে মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবা শুরু হয় ২০১১ সালের মার্চে
  • ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম সেবাটি চালু করে, যার নাম এখন রকেট
  • পরে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশ সেবা চালু হয়
  • ২০১৯ সালের মার্চে চালু হয় ডাক বিভাগের সেবা নগদ
  • ১৪ কোটি হিসাব, দৈনিক লেনদেন ২২০০ কোটি টাকা

তবে এ সেবার মাশুল এখনো অনেক বেশি। এক হাজার টাকা তুলতে গ্রাহকদের খরচ করতে হয় সাড়ে ১৮ টাকা। নগদ সেবায় খরচ কিছুটা কম। এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যে মাশুল আদায় হয়, তার ৬০ শতাংশের বেশি এজেন্টদের দেওয়া হয়। এরপর নেটওয়ার্ক খরচ দিতে হয়। বাকিটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাতে খরচ হয়। দিন শেষে মুনাফা হয় খুব কম। তবে দিন শেষে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে প্রায় ৭ হাজার হাজার কোটি টাকার বেশি জমা থাকছে। এসব অর্থের সুদ থেকেই ব্যবসা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দিনে পাঁচবারে ৩০ হাজার টাকা জমা করা যায়। মাসে ২৫ বারে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা। আর এক দিনে ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন ও ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে পাঠানো যায়। এখন গ্রাহকেরা ঘরে বসে এমএফএস হিসাব খুলতে পারেন। রয়েছে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তরের সুবিধাও। তাই মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব এখন সবার হাতের মুঠোয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেবাটি নেওয়ার সুযোগ থাকায় করোনার মধ্যে এ সেবার চাহিদা আরও বাড়ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code